বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা দমনে ‘অপারেশন শাবান’ নামে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। দেশটির সেনাবাহিনীর দাবি, গত ৫ জুলাই থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত ছয় দিনের অভিযানে মোট ১০৯ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছেন।
রোববার (১২ জুলাই) পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ, দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে ৭১ জন ‘অপারেশন শাবান’-এ এবং বাকি ৩৮ জন পৃথক নিরাপত্তা অভিযানে নিহত হয়েছেন।
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, অভিযানের সময় বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আস্তানা থেকে এম-৪ কারবাইন অ্যাসল্ট রাইফেল, সাবমেশিনগান, রকেট লঞ্চার, মোবাইল ফোন, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও গানপাউডার উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ২ জুলাই বেলুচিস্তানের মাঙ্গি জেলার একটি পুলিশ স্টেশনে হামলা চালিয়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে হত্যা করে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা। ওই ঘটনার পরই প্রদেশজুড়ে ‘অপারেশন শাবান’ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তানের সেনাবাহিনী।
তবে অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রতিরক্ষা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় দিনে বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৪২ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন।
অভিযানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পাশাপাশি ফ্রন্টিয়ার কর্পস এবং বেলুচিস্তান পুলিশের সদস্যরা অংশ নিচ্ছেন। নিহত নিরাপত্তা সদস্যদের মধ্যে কোন বাহিনীর কতজন রয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার কিছুদিন পর থেকেই বেলুচিস্তানে স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। পাকিস্তান সরকার শুরু থেকেই এ আন্দোলনকে বিচ্ছিন্নতাবাদ হিসেবে উল্লেখ করে সামরিকভাবে দমন করে আসছে।
ইসলামাবাদের অভিযোগ, বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো ভারতের সমর্থন পাচ্ছে। তবে ভারত বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এদিকে ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সশস্ত্র তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে পাকিস্তান দাবি করে আসছে। আফগানিস্তান সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় বেলুচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.