ইরানের ৩০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

শুক্র, শনি ও রোববার—এই তিন দিনে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৩০০টিরও বেশি স্থাপনা ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (১৩ জুলাই) এমন দাবি করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম)।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বার্তায় সেন্টকম জানায়, তিন দিনের মধ্যে সবচেয়ে বড় অভিযান পরিচালিত হয় শনিবার। ওই দিন মার্কিন বাহিনীর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের সামরিক বাহিনীর ১৪০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়।

সেন্টকমের দাবি, হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, নৌবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা, গোলাবারুদের গুদাম, সামরিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং উপকূলীয় নজরদারি অবকাঠামো।

এক্সে দেওয়া বার্তায় আরও বলা হয়, ইসলামাবাদ শান্তি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হামলা চালানোর জবাব এবং তেহরানকে জবাবদিহির আওতায় আনতেই এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সেন্টকমের এই দাবির কয়েক ঘণ্টা পর পৃথক এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে গত তিন দিনে বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।

আইআরজিসির দাবি, এসব হামলায় তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

তবে এ দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে সেন্টকম। মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইআরজিসির হামলায় কোনো মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হননি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের প্রায় তিন মাস পর ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইসলামাবাদ শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে গত ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে আইআরজিসির হামলার পর আবারও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযান শুরু হয়।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.