মধ্যপ্রাচ্যে জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির দাবি, এসব হামলায় কয়েকটি সামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নুর নিউজ এজেন্সি জানায়, দেশটির সেনাবাহিনী এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সমন্বিতভাবে অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
ইরানের এক সামরিক কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলার জবাব হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের পর হামলা চালানো হয়।
আইআরজিসি জানায়, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এতে কয়েকটি জ্বালানি ডিপো ও গোলাবারুদ সংরক্ষণাগারে আগুন ধরে যাওয়ার দাবি করা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ইরানের উপকূলীয় সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে প্রথম ধাপে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজ থামানোর উদ্দেশ্যে আইআরজিসির নৌবাহিনীর অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র প্রথম হামলা চালায়। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযান চলছে। ইরানের অভিযোগ, জাহাজ দুটি ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বন্ধ রেখে অবৈধভাবে চলাচল করছিল এবং নৌ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি করছিল।
আইআরজিসি জানায়, প্রতিশোধমূলক অভিযানের দ্বিতীয় ধাপে বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটির বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।
বাহিনীর দাবি, তাদের মহাকাশ বাহিনী হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, একটি পি–৮ বিমানের হ্যাঙ্গার এবং মার্কিন সামরিক ড্রোনের কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
আইআরজিসির আরও দাবি, কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটির জ্বালানি ট্যাঙ্ক ও প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং আহমেদ আল-জাবের বিমানঘাঁটির একটি কৌশলগত এফপিএস রাডার ব্যবস্থাও হামলায় ধ্বংস হয়েছে। এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার পর দেশজুড়ে আবারও সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে। জনগণকে শান্ত থাকার পাশাপাশি নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কুয়েতেও বিমান হামলার সতর্কতা হিসেবে সাইরেন বাজানো হয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করা লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের সময় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যেতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের নিরাপত্তাবিষয়ক নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.