মাত্র ৩ ঘণ্টায় ঢাকায় ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত

নিম্নচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রাজধানী জুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৯৭ মিলিমিটার অতিভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় আজ রোববারও (১২ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র ৩ ঘণ্টায় ঢাকায় ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

সকাল থেকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। ফলে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক, মহাসড়ক ও অলিগলিতে পানি জমে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।

আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদফতর আজ দুপুর ১২টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তা জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী এবং কোথাও কোথাও ৮৮ মিলিমিটারের বেশি অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নিয়ম অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলে তা ‘অতিভারী বর্ষণ’ হিসেবে গণ্য হয়।

এদিকে ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, দুপুর পর্যন্ত ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। সেই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিধসের বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ১১ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত কক্সবাজার, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে। এসব এলাকায় দুই দিনে মোট ১০০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ভূমিধ্বসের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হচ্ছে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি এবং খাগড়াছড়ি জেলাগুলো।

ভারী বৃষ্টির কারণে রাজধানীর মিরপুর, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, মালিবাগ, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, পুরান ঢাকা, শান্তিনগর, গুলিস্তান, মতিঝিল, পল্টন, কাকরাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক অলিগলি ও নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এদিকে আবার খোড়াখুড়ির কারণে রাস্তার একপাশ কাটা থাকায় কোথাও কোথাও চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.