ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সফরকালে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে ম্যাক্রোঁর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে তার অবস্থানরত হোটেলের খুব কাছেই বিস্ফোরণটি ঘটে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার সিরিয়ায় ম্যাক্রোঁর অবস্থানরত হোটেলের কাছে একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে। তবে এলিসি প্রাসাদ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাননি। এ ঘটনার পরপরই তিনি সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের ফলে সিরিয়ার নিরাপত্তা সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। দেশটিতে ২০২৪ সালে শারা-নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীরা বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ম্যাক্রোঁই প্রথম ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সফর করছেন।
রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, তিনি খুব কাছ থেকেই বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং ধোঁয়া উঠতে দেখেছেন। নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এলিসি প্রাসাদ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের গাড়িবহর থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়নি। ম্যাক্রোঁর সফরসঙ্গী গণমাধ্যম দলের সঙ্গে থাকা রয়টার্সের এক সাংবাদিকও জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের সকালের কর্মসূচি চলাকালে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়নি। এমনকি কোনো ধরনের হট্টগোলও হয়নি।
এ ঘটনার পর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, ম্যাক্রোঁ ও শারা সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট ভবনে সাক্ষাৎ করেছেন।
ম্যাক্রোঁর এ সফর শারার অধীনে সিরিয়ার ভূরাজনৈতিক রূপান্তরকে সামনে এনেছে। আল-কায়েদার সাবেক এই কমান্ডার আসাদবিরোধী পশ্চিমা ও মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। তিনি দীর্ঘ ১৩ বছরের যুদ্ধে বিধ্বস্ত সিরিয়াকে পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন।
সিরিয়ায় সংঘাত চলাকালে ইসলামিক স্টেটসহ বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠী নিজেদের ঘাঁটি গেড়েছিল।
দেশটির সুন্নি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের সদস্য শারা। তিনি আসাদ পরিবারের পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের কঠোর শাসনের অবসান ঘটানোর পর দেশটিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে বারবার সহিংসতার কারণে তার এ প্রতিশ্রুতি কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে। দেশটিতে সরকারপন্থি বাহিনী এবং ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষে গত বছর শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.