যুক্তরাষ্ট্রকে বিধ্বস্ত করে কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়াম

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ম্যাচ শুরুর আগেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখায় নিয়ম অনুযায়ী এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় থাকার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে আলোচনার পর নজিরবিহীনভাবে তার নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত করে ফিফা।

এতে শেষ ষোলোর ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামার সুযোগ পান তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো সুবিধাই এনে দিতে পারেনি। বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে স্বাগতিকদের।

নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে বড় স্বপ্ন নিয়ে নেমেছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সেই স্বপ্ন থেমে গেল শেষ ষোলোতেই। সিয়াটলে বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে মরিসিও পচেত্তিনোর দল। এই হারের মধ্য দিয়ে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে তিন স্বাগতিক দেশেরই।

শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় বেলজিয়াম। নবম মিনিটেই নিকোলাস রাসকিনের পাস থেকে গোলমুখে সহজ টোকায় স্বাগতিকদের রক্ষণ ভেঙে দেন চার্লস ডি কেটেলারা। দ্রুত গোল খাওয়ার পর কিছুটা সময় নিজেদের গুছিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে যুক্তরাষ্ট্র।

৩১তম মিনিটে ভাগ্যের সহায়তায় সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। মালিক টিলম্যানের নেয়া ফ্রি-কিক বেলজিয়ামের মিডফিল্ডার হান্স ফানাকানের মাথায় লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়িয়ে যায়। আত্মঘাতী সেই গোলেই স্কোরলাইন হয় ১-১।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেই স্বস্তি স্থায়ী হয় মাত্র দুই মিনিট। ৩৩তম মিনিটে লিয়ান্দ্রো ত্রোসারের নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ডি কেটেলারা। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই আবারও এগিয়ে যায় বেলজিয়াম।

দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকলেও সেটি নিজেদের ভুলেই নষ্ট করে যুক্তরাষ্ট্র। ৫৭তম মিনিটে গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজ বল নিয়ন্ত্রণে অযথা সময় নিলে তার কাছ থেকে বল কেড়ে নেন ডি কেটেলারা। এরপর তার পাস থেকে প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে ফাঁকা পোস্টে দুর্দান্ত শটে ব্যবধান ৩-১ করেন হান্স ফানাকান। গোলরক্ষকের এই ভুল কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় স্বাগতিকদের।

শেষ দিকে আরও একটি রক্ষণভাগের ভুলে ব্যবধান বাড়ায় বেলজিয়াম। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ক্রিস রিচার্ডসের ভুল পাস থেকে বল দখল করে ফানাকান সেটি বাড়িয়ে দেন রোমেলু লুকাকুর কাছে। অভিজ্ঞ এই স্ট্রাইকার কোনাকুনি শটে বল জালে পাঠিয়ে নিশ্চিত করেন ৪-১ গোলের বড় জয়।

ম্যাচজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আলোচিত খেলোয়াড় ছিলেন বালোগান। ম্যাচের আগে তাকে খেলানো নিয়েই সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বসনিয়ার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখায় নিয়ম অনুযায়ী এই ম্যাচে তার নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল। তবে শাস্তি স্থগিত হওয়ায় তিনি খেলতে পারেন। এ নিয়ে বেলজিয়াম ফিফার কাছে নিষেধাজ্ঞা বহালের আবেদন করলেও, ‘ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত নয়’ এই ব্যাখ্যায় তাদের আপিল খারিজ করে দেয় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ফলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো লাল কার্ড দেখেও পরের ম্যাচে মাঠে নামার ঘটনা ঘটে।

কিন্তু মাঠের খেলায় সেই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো সুবিধা এনে দিতে পারেনি। বেলজিয়ামের সুসংগঠিত রক্ষণভাগের বিপক্ষে পুরো ৯০ মিনিটে মাত্র ১৯ বার বল স্পর্শ করার সুযোগ পান বালোগান। কার্যকর কোনো প্রভাবই রাখতে পারেননি তিনি।

অন্যদিকে আক্রমণ, মাঝমাঠ ও রক্ষণ তিন বিভাগেই দাপট দেখিয়েছে বেলজিয়াম। ডি কেটেলারার জোড়া গোলের সঙ্গে ফানাকানের একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট, আর লুকাকুর শেষ মুহূর্তের গোল মিলিয়ে দুর্দান্ত জয় নিয়েই কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইউরোপের দলটি।

শেষ আটে বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ স্পেন। লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য সেই কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে জয় পেলেই সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে তারা।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.