মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এক সপ্তাহে ১৫ হাজারের বেশি অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে গালফ নিউজ।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২৫ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বিত অভিযানে ১৫ হাজার ৫৯১ জন অভিবাসীকে আটক করা হয়। একই সময়ে ১২ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে আবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৭ হাজার ৭৫৯ জন, সীমান্ত নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ৪ হাজার ৪৮৮ জন এবং শ্রম-সংক্রান্ত অপরাধে ৩ হাজার ৩৪৪ জন রয়েছেন। এছাড়া অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টাকালে আরও ১ হাজার ৬২৯ জনকে আটক করা হয়েছে।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একই সময়ে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১২ হাজার ২৯২ জনকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আরও ১৬ হাজার ৯১২ জনকে ভ্রমণ নথি সংগ্রহের জন্য নিজ নিজ কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ৪ হাজার ১৭৪ জনকে ভ্রমণের টিকিট বা বুকিং সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ২৭ হাজার ৪৪৫ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তাদের মধ্যে ২৫ হাজার ৪১২ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ৩৩ জন নারী।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ ইথিওপিয়ার, ৪৬ শতাংশ ইয়েমেনের এবং বাকি ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। এছাড়া অবৈধভাবে দেশত্যাগের চেষ্টার সময় আরও ৫৮ জনকে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ।
একই সময়ে আবাসন ও শ্রম আইন লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন এবং আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে সৌদিতে বসবাসরত ১৭ জন ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সৌদি আরবে অবৈধভাবে প্রবেশে সহায়তা করার অপরাধে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানার বিধান রয়েছে। এ বিষয়ে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বারবার সতর্কতা জারি করে আসছে।
প্রায় ৩ কোটি ৪৮ লাখ মানুষের দেশ সৌদি আরবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লাখ লাখ অভিবাসী শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যমে নিয়মিতভাবেই আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান ও অবৈধ প্রবাসীদের আটকের খবর প্রকাশিত হচ্ছে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.