ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় আয়োজনে খামেনিকে শেষ বিদায়, লাখো- কোটি মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি ইরানে

ইতিমধ্যে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে খামেনির মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়কে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন প্রস্তুতি নিয়েছে ইরান।

শনিবার (৪ জুলাই) শুরু হওয়া ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে কয়েক কোটি মানুষের অংশগ্রহণের আশা করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বিশ্লেষকদের মতে, এই আয়োজন শুধু একটি রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নয়; বরং বিশ্ববাসীর কাছে ইরানের প্রতিরোধ, ঐক্য এবং রাজনৈতিক শক্তির বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কৌশল।

খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

শুক্রবার ভোর থেকেই রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন সড়কে নিরাপত্তা চৌকি, সেনাবাহিনীর যানবাহন, ব্যানার, পোস্টার ও অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু হয়। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জাতীয় পতাকা হাতে ছোট ছোট শোক মিছিলও দেখা গেছে।

অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়কারী এবং ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ এই শোকানুষ্ঠানকে “এই শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় আয়োজন” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই হবে সবচেয়ে বড় জনসমাগম।

ইতিমধ্যে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে খামেনির মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে রাজধানী তেহরান, পবিত্র শহর কুম, প্রতিবেশী ইরাকের কারবালা ও নাজাফে শ্রদ্ধা জানানো শেষে জন্মস্থান মাশহাদের ইমাম রেজা (আ.) মাজারে তাকে দাফন করা হবে।

ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় আয়োজনে খামেনিকে শেষ বিদায়, লাখো- কোটি মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি ইরানে
তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদ

সোমবার তেহরানের ইমাম হোসেইন স্কয়ার থেকে আজাদি স্কয়ার পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ শোকযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। তেহরানের মেয়র আলিরেজা জাকানি দাবি করেছেন, এতে প্রায় দুই কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন, যা শহরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জনসমাবেশ হতে পারে।

যদিও রাজধানীজুড়ে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ছবি ও উত্তরাধিকার নিয়ে প্রচারণা চলছে, তবুও তিনি বাবার শেষকৃত্যে উপস্থিত থাকবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। এরপর থেকে তিনি জনসমক্ষে আসেননি এবং কেবল লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছেন।

ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় আয়োজনে খামেনিকে শেষ বিদায়, লাখো- কোটি মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি ইরানে
রাজধানীজুড়ে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ছবি ও উত্তরাধিকার নিয়ে প্রচারণা চলছে

ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় ৩০টি দেশের প্রতিনিধিরা শোকানুষ্ঠানে অংশ নেবেন। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিনিধি বা নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেহরানে শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। ব্যক্তিগত যানবাহন শহরের বাইরে রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং সোমবার তেহরানের আকাশসীমাও সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে যুদ্ধবিমান টহল দেবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি এবং ২০২০ সালে কুদস ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলেইমানির শেষকৃত্যে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। তাই এবার জননিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় আয়োজনে খামেনিকে শেষ বিদায়, লাখো- কোটি মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি ইরানে
খামেনির অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা একটি ছবিতে সর্বোচ্চ নেতার কফিনটি দেখা গেছে

এদিকে শোকানুষ্ঠান এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলমান। ইরানি কর্তৃপক্ষের আশা, এই আয়োজন দেশের জনগণের ঐক্য ও নেতৃত্বের প্রতি সমর্থনের বার্তা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরবে।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এরপর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.