লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো ফার্মাসিটিক্যালস পিএলসির গ্লোবাল ডিপোজিটরি রিসিপ্টস’র ওপর আরোপিত ট্রেডিং সাসপেনশন প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে শুক্রবার (২৬ জুন) থেকে কোম্পানিটির জিডিআর’র লেনদেন পুনরায় শুরু হয়েছে।
ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) মধ্যস্থতায় লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে বেক্সিমকো ফার্মাসিটিক্যালস পিএলসির ট্রেডিং পুনরায় চালু হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) ডিবিএ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ্য, বেক্সিমকো ফার্মাসিটিক্যালস পিএলসি বাংলাদেশের একমাত্র কোম্পানি, যা ২০০৪ সালে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়। ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী এবং পরবর্তী আর্থিক প্রতিবেদনসমূহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকাশ করতে না পারায় ২ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কোম্পানিটির জিডিআর লেনদেন স্থগিত ছিল। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্তি বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো সিকিউরিটিজ টানা ছয় মাস স্থগিত থাকলে এবং স্থগিতাদেশের কারণ দূর না হলে তার তালিকাভুক্তি বাতিল হতে পারে। সে অনুযায়ী ২ জুলাই ২০২৬ ছিল নির্ধারিত সময়সীমার শেষ দিন।
এ প্রেক্ষাপটে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীরা কোম্পানিটির জিডিআর ডি-লিস্টিং রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবরে পত্র দাখিল করে এবং এ বিষয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সহযোগিতা কামনা করেন। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম-এর নেতৃত্বে ডিবিএ দ্রুত বিএসইসি এবং বেক্সিমকো ফার্মাসিটিক্যালস পিএলসি-এর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করে বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানায়।
ডিবিএর উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদকে বিশেষ বোর্ড সভা আয়োজনের অনুমতি প্রদান করে, যাতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিক, নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক বিবরণী এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক বিবরণী অনুমোদন ও প্রকাশ করা সম্ভব হয়। এর মাধ্যমে কোম্পানির রিপোর্টিং-সংক্রান্ত ঘাটতি দূর হয় এবং লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ ট্রেডিং সাসপেনশন প্রত্যাহার করে শনিবার (২৬ জুন) থেকে জিডিআর লেনদেন পুনরায় চালুর অনুমোদন প্রদান করে।
ডিবিএ বিশ্বাস করে, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতা আরও সুদৃঢ় করবে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
এ বিষয়ে সময়োপযোগী সহযোগিতা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ডিবিএর পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তানভীর গনি, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান মাসুদ খান, সম্মানিত কমিশনারবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ, বেক্সিমকো ফার্মাসিটিক্যালস পিএলসি-এর পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন।
ডিবিএ আশা করে, সরকার বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে আরও বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করবে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিনিয়োগবান্ধব নীতি, কার্যকর সংস্কার ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রাখবে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.