ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির ১৪ দফা প্রকাশ

দীর্ঘদিনের বৈরিতার অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচিত সমঝোতা চুক্তির দাপ্তরিক খসড়ার নথি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রশাসন। অনলাইনে (ইলেকট্রনিক্যালি) স্বাক্ষরিত এ ঐতিহাসিক নথির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)’।

হোয়াইট হাউস বুধবার (১৭ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে ১৪ দফার এই সমঝোতা স্মারকের বিস্তারিত প্রকাশ করে। নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিনের শত্রুতা নিরসনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে শর্তসাপেক্ষে ইরানের জন্য ব্যাপক আর্থিক ও কৌশলগত সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে চূড়ান্ত চুক্তিতে সশরীরে স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে সমঝোতা কার্যকর হওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ চুক্তি চূড়ান্ত করতে উভয় পক্ষকে ৬০ দিন সময় দেওয়া হবে।

মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দ্রুত উন্মুক্ত করার পথ তৈরি হবে এবং ইরানকে তাদের পারমাণবিক কার্যক্রমের অবশিষ্টাংশ ধ্বংস করতে হবে। এর বিনিময়ে ইরান চুক্তির শর্ত মেনে চললে ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে।

সমঝোতা স্মারকে লেবাননসহ বিভিন্ন রণাঙ্গনে সংঘাত বন্ধের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি আলোচনা চলাকালীন সময়ে ইরানকে তেল রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও সম্মতি রয়েছে।

দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের পর এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.