“বাংলাদেশ’স নিউ এক্সপোর্ট ফ্রন্টিয়ার: সাসটেইনেবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রি” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্লাস্টিক প্রোডাক্টস বিজনেস প্রোমোশন কাউন্সিল (পিপিবিপিসি), বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ)-এর যৌথ উদ্যোগে সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার প্রতিষ্ঠানটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. নুরুজ্জামান এনডিসি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অধ্যাপক ড. খালেদ মাহমুদ সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিপিজিএমইএ সভাপতি সামিম আহমেদ এবং স্বাগত বক্তব্য দেন তিনি।
এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি ও বিপিসির পরিচালক ড. মো. রাজ্জাকুল ইসলাম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (টিও-২ শাখা) চৌধুরী সামিয়া ইয়াসমিন, লুনা প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এস এম কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও টেম্পাকো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সফিউস সানি আলমগীর, এসিআই-এর ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আনিসুর রহমান, নেসলের বাংলাদেশ-এর ডিরেক্টর-লিগ্যাল, রেগুলেটরি অ্যান্ড সায়েন্টিফিক অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স দেবব্রত রায় চৌধুরী এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ডিরেক্টর মার্কেটিং চৌধুরী কামরুজ্জামান প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন।
ওপেন ডিসকাশনে শাহ সিমেন্টের পক্ষ থেকে ইঞ্জিনিয়ার এস এম সাজ্জাদুল হোসেন, আকিজ ফুডের মো. তসলিম উদ্দিন এবং সিনোবাংলার হাবিবুর রহমান অংশ নেন। সমাপনী বক্তব্য দেন বিপিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি কে এম ইকবাল হোসেন।
সেমিনারে প্লাস্টিক প্যাকেজিং খাতের সদস্য, প্যাকেজিং-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, বিপিজিএমইএর সাবেক সভাপতি, পরিচালক ও উপদেষ্টারা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের পাশাপাশি প্লাস্টিক প্যাকেজিং প্রোডাক্টস শোকেসিং আয়োজন করা হয়। এতে আগত দর্শনার্থীরা প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।
সেমিনারের কনসেপ্ট নোটে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং খাতের ভবিষ্যৎ গঠনে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপের মাধ্যমে এই শিল্প বৈশ্বিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান, রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সুরক্ষায় অবদান রাখতে পারবে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রপ্তানি বহুমুখীকরণের বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনেও সহায়ক হবে। সহযোগিতা, উদ্ভাবন ও নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং সমাধানের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।
বিপিজিএমইএ সভাপতি সামিম আহমেদ বক্তব্যে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বছর পেপার ও প্যাকেজিং প্রোডাক্ট অব দ্য ইয়ার ঘোষণা করেছে। প্যাকেজিং পণ্য ইতোমধ্যে বৈশ্বিক মান অর্জন করেছে এবং বিশ্ববাজারে রপ্তানি হচ্ছে। প্যাকেজিং খাতের অবদানের কারণেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, প্রোডাক্ট অব দ্য ইয়ার ঘোষণার পর এখন টেকসই পণ্য উৎপাদনে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। বৈশ্বিক ক্রেতারা বাংলাদেশি প্যাকেজিং পণ্যের মানের স্বীকৃতি দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, কোনো পণ্যই প্যাকেজিং ছাড়া বাজারজাত করা সম্ভব নয়। বর্তমানে ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং, পেট বোতল, পিপি ওভেন ব্যাগ, এফআইবিসি ব্যাগ এবং অ্যালুমিনিয়াম বটম ফয়েলসহ বিভিন্ন ধরনের রপ্তানিযোগ্য প্যাকেজিং পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। পাশাপাশি প্লাস্টিকের প্রচ্ছন্ন রপ্তানির হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদানের জন্য তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান।
লুনা প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এস এম কামাল উদ্দিন প্যাকেজিং খাতের উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, প্লাস্টিক নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা রয়েছে, যা কাটিয়ে উঠতে পুনর্ব্যবহার কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। তিনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সরকারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি ও বিপিসির পরিচালক ড. মো. রাজ্জাকুল ইসলাম বলেন, প্যাকেজিংয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে টেকসই প্যাকেজিংয়ের বিকল্প নেই। বর্তমান অবস্থায় এই খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়া কঠিন কাজ নয়।
প্রধান অতিথি শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. নুরুজ্জামান এনডিসি প্যাকেজিংয়ের বহুমুখী ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এর প্রয়োজনীয়তার শেষ নেই। তবে প্যাকেজিং যেন নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। প্যাকেজিং শিল্পের বিকাশে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে এবং শিল্পনীতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি সেমিনারে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধকে সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ অভিহিত করে জানান, উত্থাপিত বিষয়গুলো নিয়ে শিল্প মন্ত্রণালয় অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকে বসতেও আগ্রহী। এতে শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দূরত্ব কমবে এবং বিভিন্ন বিষয়ে বিদ্যমান ব্যবধানও হ্রাস পাবে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.