বিনা অনুমতিতে এক বছর অফিসে অনুপস্থিত থাকায় নির্বাচন কর্মকর্তা রওশন আরেফিনের দুই বছর বেতন বৃদ্ধি স্থায়ীভাবে স্থগিতাদেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
রবিবার (১৪ জুন) নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বিষয়টি জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে ইসি সচিব এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনও জারি করেছেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার অফিসের নির্বাচন কর্মকর্তা রওশন আরেফিনর বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন অনুপস্থিতির অভিযোগ উত্থাপিত হয়। ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর তাকে ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন অফিস থেকে টাঙ্গাইল জেলা নির্বাচন অফিসে বদলি করা হয়। বদলির আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন অফিস ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর অবমুক্ত করার একাধারে প্রায় ১ বছর অতিক্রান্ত হলেও তিনি বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করেননি এবং বর্তমানে তিনি কোনো কর্মস্থলেই কর্মরত নেই। তিনি কর্তৃপক্ষের আইনানুগ আদেশসহ সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান লঙ্ঘন করেছেন।
তার এই কার্যকলাপ শৃঙ্খলার পরিপন্থী এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ ও বিধি ৩(গ) অনুযায়ী ‘পলায়ন’ এর অভিযোগ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করে অভিযোগনামায় কারণ দর্শানো হয় বলেও জানিয়ে নির্বাচন কমিশন। এরপর তিনি লিখিত জবাব দাখিল করে ব্যক্তিগত শুনানির অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। এতে গত ২০ জানুয়ারি ব্যক্তিগত শুনানিতে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করেন। শুনানি অন্তে ন্যায় বিচারের স্বার্থে বিভাগীয় মামলাটি তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়। তদন্তে তার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত ‘পলায়ন’ এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
সার্বিক বিবেচনায় অভিযুক্ত কর্মকর্তা মিজ রওশন আরেফিন ‘পলায়ন’ এর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ বিধি ৪(২)(খ) অনুযায়ী তার দুটি বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (২০২৬ ও ২০২৭ সালের) স্থায়ীভাবে স্থগিত করা হলো। তবে বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিতিকাল ১১ মাস ২৫ দিন তার জমা থাকা অর্জিত ছুটি (পূর্ণ গড় বেতনে) হিসেবে মঞ্জুর করা হলো। সেইসঙ্গে তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করায় সাময়িক বরখাস্তকাল কর্মকাল হিসেবে গণ্য হবে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.