মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও ইরান সংকটের অর্থনৈতিক প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় গত মে মাসে দেশটির মূল্যস্ফীতি গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মে মাস পর্যন্ত আগের ১২ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ২ শতাংশে, যা এপ্রিলে ছিল ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২৩ সালের এপ্রিলের পর এটিই সর্বোচ্চ বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার। তবে মাসিক ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে মে মাসে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যেখানে এপ্রিলে তা ছিল শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির প্রধান কারণ ছিল জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে বৈশ্বিক তেলের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা পর্যায়ে।
এদিকে মূল্যস্ফীতির এই চাপ মার্কিন পরিবারের ব্যয় ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের জন্য সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে ধরে রাখার সম্ভাবনাও বাড়িয়ে তুলছে।
অন্যদিকে, খাদ্য ও জ্বালানির মতো অস্থির উপাদান বাদ দিয়ে হিসাব করা কোর সিপিআই তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। মে মাসে কোর মূল্যস্ফীতি বার্ষিক ভিত্তিতে ২ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা এপ্রিলে ছিল ২ দশমিক ৮ শতাংশ। আর মাসিক হিসাবে কোর সিপিআই বেড়েছে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ, যা আগের মাসের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোতেও মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ বজায় থাকতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়কে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.