কাটলো ৯৬ বছরের অভিশাপ, তিন লাল কার্ডের উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকোর জয়

৯৬ বছরের অভিশাপ কাটিয়ে অবশেষে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের দেখা পেল মেক্সিকো। অ্যাজটেকা স্ট্যাডিয়ামে  লাল কার্ডের মিছিল ও উত্তপ্ত লড়াই শেষে হুলিয়ান কিনিয়োনেস ও রাউল হিমেনেজের গোলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে এল ত্রি।
সঙ্গীত, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি আর নান্দনিক উপস্থাপনার অপূর্ব সমন্বয়ে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতেমাঠে গড়াল ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। চার বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
প্রথম বাঁশি বাজানোর পর থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় স্বাগতিকরা। পুরো ম্যাচে ৬১ শতাংশ সময় বলের দখল ধরে রেখে ১৫টি শট নেয় তারা, যার পাঁচটি ছিল লক্ষ্যভেদী। বিপরীতে দক্ষিণ আফ্রিকা চারটি শট নিলেও মাত্র তিনটি রাখতে পারে গোলমুখে।
এদিন ম্যাচের মাত্র পঞ্চম মিনিটেই গোলের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করে মেক্সিকো। ডি-বক্সের ভেতর থেকে রাউল হিমেনেজের নেয়া শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দিয়ে দলকে বিপদমুক্ত করেন দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞ গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস।
তবে চার মিনিট পর আর রক্ষা হয়নি। নবম মিনিটে আক্রমণভাগের দারুণ সমন্বয় থেকে বল পেয়ে ঠান্ডা মাথায় জালে পাঠান হুলিয়ান কিনিয়োনেস। তার গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা, আর উল্লাসে ফেটে পড়ে মেক্সিকো সিটির গ্যালারি। সেই সঙ্গে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম গোলদাতা হিসেবেও নিজের নাম লেখান এই ফরোয়ার্ড।
গোল করার পরও আক্রমণের ধার কমায়নি মেক্সিকো। ২০তম মিনিটে আবারও গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন কিনিয়োনেস। তবে তার নেয়া শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে গেলে ব্যবধান বাড়ানো হয়নি। প্রথমার্ধের শেষদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা কিছুটা গুছিয়ে ওঠার চেষ্টা করলেও মেক্সিকোর রক্ষণভাগ ছিল সতর্ক। ৪২তম মিনিটে রনওয়েন উইলিয়ামস আরও একটি দুর্দান্ত সেভ করে দলকে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়া থেকে রক্ষা করেন।
এরপর ৪৫তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে মেক্সিকোর গোলমুখে শঙ্কা তৈরি করেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডিফেন্ডার এমবেকেজেলি এমবোকাজি। তবে তার সেই প্রচেষ্টা দারুণ ক্ষিপ্রতায় ঠেকিয়ে দেন মেক্সিকোর গোলরক্ষক রাউল রানহেল। যোগ করা সময়ে ব্রায়ান গুতিয়েরেসের জোরালো শট ক্রসবারের খুব কাছ দিয়ে বাইরে চলে গেলে ১-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।
বিরতি থেকে ফিরে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় মেক্সিকো। ৪৮তম মিনিটে কিনিয়োনেসের দূরপাল্লার শট গ্লাভসবন্দি করেন উইলিয়ামস। এক মিনিট পর গুতিয়েরেস ফাঁকা জায়গায় বল পেয়ে দ্রুত দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগের দিকে এগিয়ে গেলে তাকে বক্সের ঠিক বাইরে ফাউল করে বসেন মিডফিল্ডার স্পেফেলো সিথোলে। নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। তাতে ১০ জনের দলে পরিণত হয় দক্ষিণ আফ্রিকা।
৬৬তম মিনিটে ইতিহাস গড়ে মাঠে নামেন ১৭ বছর বয়সী গিলবার্তো মোরা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে মেক্সিকোর সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে অভিষেক হয় তার। আর ঠিক এক মিনিট পরই আসে ম্যাচের দ্বিতীয় গোল। রবার্তো আলভারাদোর নিখুঁত ক্রসে বক্সের পেছনে দারুণ টাইমিংয়ে পৌঁছে হেডে বল জালে জড়ান রাউল হিমেনেজ। তার গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
ম্যাচের শেষ দিকে উত্তেজনা আরও বাড়ে। ৮৪তম মিনিটে মেক্সিকোর এক খেলোয়াড়কে ফাউল করে দ্বিতীয়বারের মতো লাল কার্ড দেখে দক্ষিণ আফ্রিকা। এবার মাঠ ছাড়েন মিডফিল্ডার থেম্বা জেওয়ানে।তবে নাটকীয়তা এখানেই শেষ হয়নি। যোগ করা সময়ে নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করতে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় ফাউল করেন মেক্সিকোর অধিনায়ক সিজার মন্তেস। সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে তাকে মাঠের বাইরে পাঠান রেফারি। ফলে ম্যাচটি শেষ হয় মোট তিনটি লাল কার্ডের সাক্ষী হয়ে।
শেষ পর্যন্ত কিনিয়োনেস ও হিমেনেজের দুই গোলে ২-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় স্বাগতিক মেক্সিকো। দাপুটে এই জয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে স্বাগতিকরা।
  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.