ঘোষণা করা হল ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট

‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শিরোনামে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে সরকার। এই বাজেট চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। ঘোষিত বাজেট চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা বেশি।

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন। এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট।

এবারের বাজেটের আকার যে বেশ বড় হবে সে তথ্য আগেই জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে গতিসঞ্চারের জন্য ব্যয় বাড়াতে হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। এবারের বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আগামী অর্থবছরের বাজেটে পরিচালনসহ অন্যান্য ব্যয় তথা অনুন্নয়ন ব্যয় ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এই খাতে ৫ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা। তবে সংশোধিত বাজেটে এটি বেড়ে ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা হয়েছে। সে হিসেবে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত রাজস্ব ব্যয় এবারের মূল বাজেটের চেয়ে ১৩ শতাংশ এবং সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৬.৭০ শতাংশ বেশি।

আর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এডিপি’র আকার ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। সে হিসেবে প্রস্তাবিত এডিপির আকার বাড়ছে ৩০.৪৩ শতাংশ।

আগামী অর্থবছরে শুধু সুদ পরিশোধ খাতেই ব্যয় হবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এই খাতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১০.২০ শতাংশ। মোট আয়ের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে আসবে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। আর এনবিআর বহির্ভূত রাজস্ব ধরা হচ্ছে ২৫ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া কর বহির্ভূত রাজস্ব আদায় ধরা হয়েছে ৬৬ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া আছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩.৬০ শতাংশ। আর এই ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে আসবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা।। এ ছাড়া বৈদেশিক ঋণ পাওয়ার আশা ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা।

ঘোষিত বাজেটে জিডিপি প্রাক্কলন করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে হচ্ছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.