ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলের কাছে সোমবার ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে অন্তত ১৬ জন নিহত এবং ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের পর প্রায় ১ মিটার উচ্চতার সুনামি ঢেউ উপকূলে আঘাত হানে।
ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজির পরিচালক তেরেসিতো বাকোলকোল জানান, এটি একটি বড় ধরনের ভূমিকম্প এবং এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মিন্ডানাও দ্বীপের কাছে সমুদ্রের নিচে, সারাঙ্গানি প্রদেশের মাসিম শহর থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল প্রায় ৩৩ কিলোমিটার।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেনারেল সান্তোস শহর। সাত লাখের বেশি জনসংখ্যার এই বন্দরনগরী টুনা মাছ রপ্তানি এবং বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সেখানে কয়েকটি ভবন আংশিক ধসে পড়েছে এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুসহ বিভিন্ন অবকাঠামোয় ফাটল দেখা দিয়েছে।
ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র বলেন, “জাতীয় সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং আমরা মিন্ডানাওকে একা ছেড়ে দেব না।”
জেনারেল সান্তোস শহরে অন্তত সাতজন নিহত এবং প্রায় ১৩০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণ কোটাবাটো, দাভাও অক্সিডেন্টাল এবং বালুত দ্বীপে ধ্বংসস্তূপ, মসজিদের ক্ষতি ও ভূমিধসের ঘটনায় আরও নয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জেনারেল সান্তোসে একটি দুইতলা বিদ্যালয় ভবন ধসে পড়ার পর কয়েকজন শিক্ষার্থী আটকা পড়ার খবর পাওয়া গেছে। শহরটিতে অন্তত সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবন ও গুদামঘরে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছেন।
গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষে সোমবার দেশজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছিল। ভূমিকম্পের সময় পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শতাধিক শিক্ষার্থী আতঙ্কে আহত হন এবং কয়েকজন অজ্ঞান হয়ে যান।
জেনারেল সান্তোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৭টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ভূমিকম্পের প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর সুনামির প্রধান ঝুঁকি কেটে যায়। তবে কিছু উপকূলীয় এলাকায় উঁচু ঢেউ আঘাত হানায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সারাঙ্গানি ও সুলতান কুদারাত অঞ্চলে প্রায় ১ মিটার উচ্চতার ঢেউ রেকর্ড করা হয়। সারাঙ্গানির কিয়াম্বা এলাকায় এক পর্যায়ে ঢেউয়ের উচ্চতা ১ দশমিক ৪ মিটার পর্যন্ত পৌঁছায়।
ভূমিকম্পের প্রভাব মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্যেও অনুভূত হয়েছে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়া, পালাউ এবং জাপানের কিছু উপকূলীয় এলাকায় ছোট আকারের সুনামি ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ভূমিকম্পটির গভীরতা ৫৫ কিলোমিটার বলে জানিয়েছে। ভূমিকম্পের পর ৬ দশমিক ৫ মাত্রা পর্যন্ত একাধিক আফটারশক অনুভূত হয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় ফিলিপাইন বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.