পুঁজিবাজারে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান হলেন খ্যাতনামা চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট মো: মাসুদ খান। আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) তাকে এ পদে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। তাকে চার বছরের জন্য আলোচিত পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মাসুদ খানের সঙ্গে তিন জন নতুন কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।। এরা হচ্ছেন ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের এমডি নাফিজ আল তারিক, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাহিদ মাহতাব ও আশা ইন্টারন্যাশনালের ফাইনান্স ডিরেক্টর তানভীর হাবিব রহমান।

মাসুূদ খান ২০২০ সালের জুলাই মাস থেকে ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি ক্রাউন সিমেন্ট গ্রুপ বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। তিনি বহুজাতিক কোম্পানি বার্জার পেইন্টস, জিএসকে এবং স্থানীয় করপোরেট গ্রুপে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেছেন, যার মধ্যে ২৩ বছর বোর্ড লেভেলে ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মাসুদ খানের প্রায় ৫০ বছর বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক ও স্থানীয় কোম্পানিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
এদিকে আজ সকালে বিএসইসির চেয়ারম্যান পদ থেকে খন্দকার রাশেদ মাকসুদসহ চার কমিশনার পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন। কমিশনাররা হচ্ছেন, মো. মহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ ও মো. সাইফুদ্দিন।
খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট চার বছরের জন্য বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। একই বছরের ২ জুন মু. মহসীন চৌধুরী কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান। পরে ২৮ আগস্ট মো. আলী আকবর, ৩ সেপ্টেম্বর ফারজানা লালারুখ এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই মো. সাইফুদ্দিন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন।
এর আগে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে দেশের পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি পুনর্গঠনের ঘোষণা দেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার (২ জুন) রাজধানীতে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
মন্ত্রীর ওই ঘোষণার পর থেকেই বিএসইসিতে পরিবর্তনের জোর আলোচনা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত চেয়ারম্যানসহ চার কমিশনার একযোগে পদত্যাগ করলেন।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.