জালিয়াতি রোধে পাঁচ দফা নির্দেশনা দিয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস। মঙ্গলবার (২ জুন) এই বিষয়ে একটি বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে নোটিশ প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান পদ্ধতির কিছু ক্রটি এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে কতিপয় ক্লার্ক কর্তৃক অত্র অফিসের কিছু কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজস পূর্বক নোটিশ জালিয়াতির অভিযোগ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
একটি গড়মিলের উদাহরণও নির্দেশনায় তুলে ধরা হয়। বলা হয়েছে, মঙ্গলবার অবকাশকালীন অ্যানেক্স ভবনের ১৪ নম্বর কোর্টে এমন বেশ কয়েকটি মামলার এফিডেভিটকৃত মূল আবেদনের টেন্ডার নম্বরের সঙ্গে নোটিশে প্রদত্ত টেন্ডার নম্বরের গড়মিল ধরা পড়ে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট আদালতের দৃষ্টিগোচরে নেওয়ার পর, উক্ত কোর্টে তালিকাভুক্ত অন্যান্য অনেক মামলার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা পরিলক্ষিত হয়। যা থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, কোনও অসৎ উদ্দেশ্যে বা কোনও অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের জন্য উক্ত প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়। এই অবস্থায় আদালত আজকের ২৯, ৩০, ৩২, ৩৯, ৪৩, ৪৪, ৪৯, ৫৩, ৫৮, ৬০, ৬১, ৮৩, ১১১, ১১২, ১৮০ ও ১৮৪ আইটেমগুলো ডিলিট করেন।
এছাড়া দায়েরকৃত বিভিন্ন মামলায় সনাক্তকারী আইনজীবী এবং নোটিশে স্বাক্ষরিত আইনজীবীদের মধ্যেও বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যায়। ফলশ্রুতিতে কোনও মামলায় নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে সনাক্ত করা অত্র অফিসের পক্ষে দুরুহ হয়ে পড়ে। কতিপয় ব্যক্তি বিশেষের এহেন অনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য আইনজীবী সমাজ ও দেশের সর্বেবোচ্চ আদালতের বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত সকলকে অহেতুক বিব্রত বা সমালোচনার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। বিচারিক স্বচ্ছতার স্বার্থে অত্র অফিসে নোটিশ প্রদানের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত সিদ্ধান্ত সমূহ গৃহীত হয়েছে। এগুলো হলো-
১. মূল পিটিশনে সনাক্তকারী আইনজীবী এবং নোটিশে স্বাক্ষরিত আইনজীবী একই আইনজীবী হতে হবে;
২. কোনও মামলার এফিডেভিট সম্পন্ন করার পরবর্তী ৭ (সাত) দিনের মধ্যে অত্র অফিসে নোটিশ জারি করতে হবে;
৩. অত্র অফিসের জমাকৃত নোটিশে টেন্ডার নম্বর টাইপকৃত হতে হবে;
৪. এফিডেভিট সম্পন্ন হওয়ার পর মূল আবেদনপত্রের ফটোকপি এবং ওকালতনামার উভয় পৃষ্ঠাসহ অত্র অফিসে নোটিশ জমা দিতে হবে; এবং
৫. কোনও আদালতে পূর্বে দাখিলকৃত একই মামলা অন্য আদালতে তালিকাভূক্ত করার ক্ষেত্রে অত্র অফিসে নতুন নোটিশ প্রদানের সময় পূর্ববর্তী আদালতে দাখিলকৃত মামলার নোটিশের একটি অনুলিপি সংযুক্ত করতে হবে।
এই নির্দেশনা আগামী ১৪ জুন থেকে কার্যকর হবে বলেও নির্দেশনায় বলা হয়।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.