ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ডিজিটাল বাজার আইন (DMA) লঙ্ঘনের অভিযোগে টেক জায়ান্ট গুগলের বিরুদ্ধে ইতিহাসের অন্যতম বড় জরিমানার প্রস্তুতি চলছে। জার্মান দৈনিক হ্যান্ডেলসব্লাট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরিমানার পরিমাণ কয়েকশ কোটি ইউরো ছাড়িয়ে যেতে পারে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন। আগামী গ্রীষ্মকালীন বিরতির মধ্যেই এ ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ইউরোপের ডিজিটাল বাজার আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি। এই আইনের লক্ষ্য হলো বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য কমিয়ে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করা।
ইউরোপীয় কমিশনের তদন্তে উঠে এসেছে, গুগল নিজেদের সার্চ সেবায় নিজস্ব পণ্য ও সেবাগুলোকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। এছাড়া অ্যাপ মার্কেটেও নির্মাতাদের বিকল্প মাধ্যমে ব্যবহারকারী পাঠানোর সুযোগ সীমিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০২৪ সালের মার্চে তদন্ত শুরু করে ইউরোপীয় কমিশন। এক বছর পর প্রকাশিত প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়, গুগলের কার্যক্রম DMA-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ইউরোপীয় কমিশনের কর্মকর্তা তেরেসা রিবেরা বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তোলা। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব না হলে তবেই কঠোর ব্যবস্থায় যাওয়া হয়।”
তবে কমিশনের দাবি, এখন পর্যন্ত গুগল যে সমাধান প্রস্তাব করেছে তা সন্তোষজনক নয়। চলতি মাসে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও সময় দেওয়া হলেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যায়নি। ফলে জরিমানা হলে সেটিই হতে পারে DMA আইনের অধীনে সবচেয়ে বড় শাস্তি।
অন্যদিকে গুগলের দাবি, ইউরোপীয় কমিশনের নির্দেশনা মেনে সেবায় আনা পরিবর্তনের কারণে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, এসব পরিবর্তনের ফলে ইউরোপের ব্যবহারকারীরা আগের মতো মানসম্মত সেবা পাচ্ছেন না।
এর আগেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আইনের মামলায় গুগল একাধিকবার তদন্ত ও বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়েছে। সার্চ সেবা, বিজ্ঞাপন ব্যবসা, স্মার্টফোন নীতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবা নিয়েও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.