ইরানকে লক্ষ্য করে পরিচালিত সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’তে কমপক্ষে ৪২টি উড়োজাহাজ ধ্বংস হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। এসব উড়োজাহাজের মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, রি-ফুয়েলিং ট্যাংকার উড়োজাহাজ এবং নজরদারি উড়োজাহাজ।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম গলফ নিউজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের অধীন সংস্থাটি ধ্বংস হওয়া উড়োজাহাজগুলোর একটি তালিকাও প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ধ্বংস হওয়া উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সর্বাধুনিক ও অগ্রসর বিমানও রয়েছে।
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে প্রায় দেড় দশক ধরে টানাপোড়েন চলার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকম। যুদ্ধ চলে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত। পরে ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
সিআরএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধ্বংস হওয়া উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ৪টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল ফাইটার জেট, একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং টু স্টেলথ ফাইটার, একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু অ্যাটাক এয়ারক্র্যাফট, ৭টি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকার রি-ফুয়েলিং উড়োজাহাজ, একটি ই-৩ সেন্ট্রি এওয়াকস সার্ভেইলেন্স এয়ারক্র্যাফট, ২টি এমসি-১৩০ জে কমান্ডো টু স্পেশাল অপারেশন এয়ারক্র্যাফট, একটি এইচএইচ-৬০ ডব্লিউ জলি গ্রিন রেসকিউ হেলিকপ্টার, ২৪টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন হাই-অল্টিচ্যুড সার্ভেইলেন্স ড্রোন।
ধ্বংস হওয়া এসব উড়োজাহাজ ও বিমানের মূল্য প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পরিচালনার মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারকে উচ্ছেদ করা এবং ইরানের কাছে থাকা ৪০০ কেজি ইউরেনিয়ামের মজুত দখল করা।
যুদ্ধের প্রথম দিনই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সপরিবারে নিহত হন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া পরবর্তী ৪০ দিনে ইরানের প্রথম সারির বেশ কয়েকজন সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তারও মৃত্যু হয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্র যে লক্ষ্য নিয়ে এ অভিযান শুরু করেছিল, তা সফল হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের সরকার উচ্ছেদ হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ইউরেনিয়ামের মজুতের হদিস উদ্ধার করতে পারেনি।
সিআরএসের এই প্রতিবেদনকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ন হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, ইরানে সংঘাত শুরুর পর থেকে মার্কিন এমপিরা একাধিকবার যুদ্ধের ব্যয় ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে জানতে পেন্টাগনের কাছে তথ্য চাইলেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.