পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর মুসলিমদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় এবং নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার রাজ্যে ওবিসি (অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণী) সংরক্ষণ ১৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ শতাংশ এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের ওবিসি সংরক্ষণ আপাতত সম্পূর্ণভাবে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। এতে সরকারি চাকরি ও উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে মুসলিমদের জন্য কোনো অগ্রাধিকার থাকছে না।
২০১২ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকার ‘পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণী আইন’ পাশ করে, যার মাধ্যমে মোট ৭৭টি সম্প্রদায়কে ১৭ শতাংশ ওবিসি সংরক্ষণ প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ‘এ’ বিভাগের অধীনে ‘অধিক অনগ্রসর শ্রেণীর’ জন্য ১০ শতাংশ এবং ‘বি’ বিভাগের অধীনে ‘অনগ্রসর’ শ্রেণীর জন্য ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। এর বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করা হলে, কলকাতা হাইকোর্ট ২০২৪ সালের মে মাসে রাজ্য সরকারের ২০১০ সালের মার্চ থেকে ২০১২ সালের মে মাসের মধ্যে জারি করা একাধিক আদেশ বাতিল করে দেয়।
তবে ক্ষমতায় আসার ১০ দিনের মধ্যেই ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে এবার ২০১০ সালের আগের সিদ্ধান্তে ফিরল বিজেপি সরকার।
মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতের সংবিধানে ধর্মের ভিত্তিতে কোনও সংরক্ষণের বিধান নেই। বিগত সরকার শুধু ভোটব্যাংক রাজনীতির স্বার্থে তোষণের নীতি নিয়ে ঢালাওভাবে মুসলিমদের ওবিসি তালিকাভুক্ত করেছিল, যার ফলে প্রকৃত অনগ্রসর হিন্দুরা বঞ্চিত হচ্ছিলেন। আদালতের রায় ও আইনি বাধ্যবাধকতাকে মান্যতা দিয়েই মুসলিম ওবিসি কোটা আপাতত সম্পূর্ণ বাতিল করা হল।
এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় বিষয় হল মুসলিম ওবিসি কোটা সম্পূর্ণ বাতিল করা। মূলত ওবিসি-এ ক্যাটাগরির সিংহভাগ এবং ওবিসি-বি ক্যাটাগরির একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল মুসলিমদের বিভিন্ন গোষ্ঠী। এতে এখন ৭ শতাংশ ওবিসিতে শুধু অনগ্রসর হিন্দু জাতিগুলো অগ্রাধিকার পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে- কাপালি, কুর্মি, কর্মকার, কুম্ভকার, নাপিত, তেলি, যোগী-নাথ, গোয়ালা-গোপ, জোলা ইত্যাদি।
এদিকে শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসসহ মুসলিম সংগঠনগুলো আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.