সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে আবারও বড় পতন

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরুতে জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও বছরের সপ্তম ও অষ্টম মাসে এসে আবারও বড় ধরনের পতন নেমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক-এর সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের নবম মাস মার্চে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি ঋণাত্মক হয়েছে ২ হাজার ১৩৫ কোটি ৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ, এ সময়ে নতুন বিক্রির তুলনায় আগের সঞ্চয়পত্রের আসল ও সুদ পরিশোধে সরকারকে বেশি অর্থ গুনতে হয়েছে।

অন্যদিকে, আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫-এর একই সময়ে সঞ্চয়পত্র বিক্রি ইতিবাচক অবস্থানে ছিল। তখন নিট বিক্রি হয়েছিল ৮০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

এর আগে চলতি অর্থবছরের অষ্টম মাস ফেব্রুয়ারিতেও সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে নেতিবাচক ধারা দেখা যায়। ওই মাসে বিক্রির তুলনায় আগের আসল ও সুদ বাবদ অতিরিক্ত ১ হাজার ১৬৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে।

তবে জানুয়ারিতে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন ছিল। অর্থবছরের সপ্তম মাসে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি আগের আসল-সুদ পরিশোধের তুলনায় ১ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা বেশি ছিল।

একক মাসের মতো সামগ্রিক হিসাবেও সঞ্চয়পত্র বিক্রি এখনও নেতিবাচক ধারায় রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি ঋণাত্মক ২ হাজার ৬৮৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ, এ সময়ে বিক্রির তুলনায় বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে আগের আসল ও সুদ বাবদ।

যদিও আগের অর্থবছরের একই সময়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ ছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে নিট বিক্রি ঋণাত্মক ছিল ৮ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা।

প্রতিবেদন আরও বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের পুরো ১২ মাসেও সঞ্চয়পত্র বিক্রি নেতিবাচক ধারায় ছিল। ওই সময়ে বিক্রির তুলনায় আগের আসল ও সুদ বাবদ অতিরিক্ত ৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়েছিল।

এর আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ খাতে চাপ আরও বেশি ছিল। সে সময় সঞ্চয়পত্র বিক্রির তুলনায় আগের আসল ও সুদ বাবদ অতিরিক্ত ২১ হাজার ১২৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হয় সরকারকে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.