আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, গুমের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে যথাযথ আইন প্রণয়ন করা হবে। এখানে অনেক বিষয় চিন্তা ভাবনা করার ব্যাপার রয়েছে। হুট করে এমন কোনো আইন প্রণয়ন করা হবে না, যেটা অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে তাকে লাভবান করবে।
রবিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুমসংক্রান্ত আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এক অংশীজন সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা এ বিষয়ে যথাযথ ও যথেষ্ট আলোচনা করার পর সিদ্ধান্ত নিতে চাচ্ছি। হঠাৎ করে একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে সে অনুযায়ী আইন করা হলে, যদি সেটা কাজেই না লাগে এবং অপরাধী যদি পার পেয়ে যায় বা উপকৃত হয়, তবে সে আইনের কোনো প্রয়োজন নেই। গুমের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুতর। এখানে বিবেচনার বহু বিষয় রয়েছে, যা অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে উঠে আসবে। তবে আপনারা নিশ্চিত থাকুন, বাংলাদেশে গুম যেন কখনোই ফিরে আসতে না পারে-এমন একটি আইন প্রণয়ন করা হবে।
সভায় সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদী বলেন, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল তৎকালীন সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে আমার স্বামী ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়। আমরা সবসময় ভেবেছি তিনি(ইলিয়াস আলী) ফিরে আসবেন। এটাও চিন্তা করেছিলাম যে, আগস্টের পাঁচ তারিখের পরে হয়ত অন্তত তার একটা খবর আমরা পাব, কিছু অন্তত জানবো, কিন্তু তা হয়নি। যারা গুমের শিকার বা তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে ন্যায়বিচার চাইতেই আমি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়েছি। আপনাদের কাছে প্রত্যাশা থাকবে এমন যেন আইন হয়, যাতে ভবিষ্যতে কখনোই দেশে কাইকে গুমের শিকার হতে না হয়।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও মানবাধিকার সংগঠন ‘মায়ের ডাক’ এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, বিগত সময়ের মানবাধিকার কমিশনগুলো এ বিষয়কে এড়িয়ে গেছে। তাদের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ আমরা কখনও দেখতে পাইনি।
উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তারা গুম প্রতিরোধে বাস্তবসম্মত আইন প্রণয়নে গুম সংক্রান্ত অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তির মেয়াদ প্রণয়ন, তদন্তকারী কর্মকর্তার ন্যূনতম যোগ্যতার একটি মানদণ্ড প্রবর্তন ও এ অপরাধের সার্বিক বিচারিক কার্যক্রমকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় বিধি সংযোজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.