কৃষিপণ্যের বাণিজ্য বাড়াতে শুল্ক কমাতে একমত চীন-যুক্তরাষ্ট্র

চীন ও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক কমানোর মধ্য দিয়ে কৃষিপণ্যের বাণিজ্য বাড়ানো এবং অশুল্ক বাধা ও বাজারে প্রবেশসংক্রান্ত জটিলতা দূর করার বিষয়ে একমত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বেইজিং সফরের পর গতকাল শনিবার চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয় বলেছে, এসব সমঝোতা এখনো ‘প্রাথমিক পর্যায়ে’ আছে এবং যত দ্রুত সম্ভব তা চূড়ান্ত করা হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের পর এ ঘোষণা এল।

গত বছরের পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের পরও যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীন যে কৃষিপণ্য আমদানি করে, তাতে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল আছে। ফলে দুই দেশের কৃষিপণ্যের বাণিজ্য অনেকটা কমে যায়। মার্কিন কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের কৃষিপণ্য আমদানি আগের বছরের তুলনায় ৬৫ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ৮৪০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যে পারস্পরিক শুল্ক কমিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানোর চেষ্টা করবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে কোন কোন পণ্যে এই সুবিধা দেওয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।

গত অক্টোবরের বৈঠকের পর চীন আবারও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কৃষিপণ্য আমদানি শুরু করে। এর অংশ হিসেবে ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ ১ কোটি ২০ লাখ টন সয়াবিন কেনার প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে বেইজিং। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিছু গম ও বিপুল পরিমাণ সরগাম বা জোয়ার কিনেছে চীন।

বাজারবিশ্লেষকদের ধারণা, সয়াবিনের ওপর শুল্ক ১০ শতাংশ কমানো হতে পারে। এতে চীনের বেসরকারি তেলবীজ প্রক্রিয়াজাতকারীরা আবারও মার্কিন সয়াবিন কেনা শুরু করতে পারবেন। গত মৌসুমে মূলত রাষ্ট্রীয় কোম্পানিগুলোই এসব পণ্য কিনেছে।

বেইজিংভিত্তিক অ্যাগ্রাডার কনসালটিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা জনি শিয়াং বলেন, কৃষিপণ্যে শুল্ক কমানো হলে চীন-যুক্তরাষ্ট্র কৃষিবাণিজ্য আবার স্বাভাবিক ধারায় ফিরবে এবং বাণিজ্যিক ক্রেতারা বাজারে সক্রিয় হতে পারবেন।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, অশুল্ক বাধা ও বাজারে প্রবেশসংক্রান্ত সমস্যাগুলোর সমাধান বা অন্তত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্য থেকে গরুর মাংস ও পোলট্রি রপ্তানির ক্ষেত্রে চীনা রপ্তানিকারকদের নিবন্ধন নিতে হয়। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ আছে। চীন জানিয়েছে, এই উদ্বেগ দূর করতে কাজ করবে তারা। গত শুক্রবার বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের ৪২৫টি গরুর মাংস প্রক্রিয়াজাত কারখানার নিবন্ধনের মেয়াদ পাঁচ বছর বাড়িয়েছে। পাশাপাশি আরও ৭৭টি মার্কিন স্থাপনাকে নতুন পাঁচ বছরের অনুমোদন দিয়েছে।

মার্কিন কৃষিমন্ত্রী ব্রুক রোলিন্স গতকাল শনিবার এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, চীন গরুর মাংস আমদানিসংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি অঙ্গরাজ্য থেকে আবারও গরুর মাংস আমদানি শুরু হবে।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার শুক্রবার বলেন, আগামী তিন বছরে চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ‘১০ বিলিয়ন বা ১ হাজার কোটি ডলারের বেশি’ মূল্যের কৃষিপণ্য কিনবে বলে ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা। তবে কোন পণ্য কত পরিমাণে কেনা হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.