উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া এবং এশিয়ার অনেক গন্তব্যের পাশাপাশি ঢাকা রুটেও ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে ভারতের পতাকাবাহী বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া। এমনকি মুম্বাই-ঢাকা রুটে সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া দিল্লি-ঢাকা রুটে ফ্লাইট সংখ্যা সাত থেকে কমিয়ে ৪টি করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মূলত দুটি চ্যালেঞ্জের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলের আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে জেট জ্বালানির রেকর্ড দাম বৃদ্ধির ফলে দীর্ঘ পাল্লার রুটগুলোতে কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কঠিন হয়ে পড়েছে। শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিলের ঝুঁকি এড়াতে এবং নেটওয়ার্ককে স্থিতিশীল রাখতেই আগেভাগে এই রুট যৌক্তিকীকরণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এই রদবদলের পরও তারা পাঁচ মহাদেশজুড়ে প্রতি মাসে ১ হাজার ২০০-এর বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করবে। তবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রুটে পরিবর্তন আনা হয়েছে:
দিল্লি-শিকাগো সার্ভিস সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। সান ফ্রান্সিসকো, টরন্টো এবং ভ্যাঙ্কুভার রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা কমানো হয়েছে। এ ছাড়া মুম্বাই-নিউইয়র্ক (জেএফকে) এবং দিল্লি-নেওয়ার্ক সার্ভিস আপাতত বন্ধ থাকবে। তবে মুম্বাই থেকে নেওয়ার্ক রুটে প্রতিদিন ফ্লাইট চলবে।
প্যারিস, রোম, জুরিখ, ভিয়েনা, মিলান এবং কোপেনহেগেন রুটে সাপ্তাহিক ফ্লাইটের সংখ্যা কমবে। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও মেলবোর্ন রুটে প্রতিদিনের পরিবর্তে সপ্তাহে ৪টি করে ফ্লাইট চলবে।
দিল্লি থেকে সাংহাই রুটে আগস্ট পর্যন্ত বিমান চলাচল বন্ধ থাকবে। চেন্নাই-সিঙ্গাপুর, মুম্বাই-ঢাকা এবং দিল্লি-মালে ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা, কাঠমান্ডু, কলম্বো, ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর, হ্যানয় এবং হো চি মিন সিটি রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা কমানো হয়েছে।
ফ্লাইট বাতিল বা সময় পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের বিকল্প বুকিং, তারিখ পরিবর্তন বা টিকিটের ধরন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অর্থ ফেরতের (রিফান্ড) নিশ্চয়তা দিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া। যাত্রীদের কেবল এয়ার ইন্ডিয়ার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, অ্যাপ বা ভেরিফাইড সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। খবর- এনডিটিভি



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.