চিন সফরে গিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উদ্দেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আপনার সঙ্গে থাকা এবং আপনার বন্ধু হতে পারাটা আমার জন্য সম্মানের। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও ভালো হতে যাচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকালে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে গ্রেট হল অব দ্য পিপলে শুরু মার্কিন ও চীনা প্রেসিডেন্টের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বক্তব্য দেয়ার সময় ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, আজ শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারা তার জন্য একটি সম্মানজনক বিষয়। আমাদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে, যখনই কোনো জটিলতা দেখা দিয়েছে আমরা তা সমাধান করেছি। আমি আপনাকে ফোন করতাম এবং আপনিও আমাকে ফোন করতেন।
তিনি আরও বলেন, মানুষ জানে না যে, আমাদের যখনই কোনো সমস্যা হয়েছে, আমরা খুব দ্রুত তার সমাধান করেছি।
ট্রাম্প বলেন, আমি সবার কাছেই বলি যে, আপনি একজন মহান নেতা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, এই সফরে তিনি তার সঙ্গে বিশ্বের সেরা ব্যবসায়িক নেতাদের নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, আপনাকে সম্মান জানাতে আজ এখানে শুধুমাত্র শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরাই উপস্থিত হয়েছেন।
ট্রাম্প আরও যোগ করেন যে, কেউ কেউ একে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ সম্মেলন হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং তিনি তাদের মধ্যকার আলোচনার ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী।
এর আগে উদ্বোধনী বক্তব্যে শি জিনপিং বলেন, সারা বিশ্ব আমাদের এই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এমন এক পরিবর্তন ত্বরান্বিত হচ্ছে যা গত এক শতাব্দীতে দেখা যায়নি এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত পরিবর্তনশীল ও উত্তাল।
তিনি বলেন, বিশ্ব আজ এক নতুন সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি থুসিডাইডস ট্র্যাপ কাটিয়ে সম্পর্কের এক নতুন কাঠামো তৈরি করতে পারবে? আমরা কি সম্মিলিতভাবে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে বিশ্বে আরও স্থিতিশীলতা আনতে পারব? আমাদের বিশ্ব, দুই দেশের জনগণ এবং মানবতার ভবিষ্যতের স্বার্থে আমরা কি আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি উজ্জ্বলতর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারি?
তিনি আরও বলেন, এই প্রশ্নগুলো ইতিহাস, বিশ্ব এবং সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো আমাদের সময়ের এমন কিছু প্রশ্ন, যার উত্তর বড় দেশগুলোর নেতা হিসেবে আপনার এবং আমার দেওয়া প্রয়োজন।
শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ট্রাম্পকে এবং মার্কিন জনগণকে অভিনন্দন জানান।
তিনি আরও বলেন, আমি সবসময় বিশ্বাস করি যে, আমাদের দুই দেশের মধ্যে মতভেদের চেয়ে অভিন্ন স্বার্থের জায়গা অনেক বেশি। একজনের সাফল্য অন্যজনের জন্য সুযোগ বয়ে আনে এবং একটি স্থিতিশীল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিশ্বের জন্য মঙ্গলজনক। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশই সহযোগিতা থেকে লাভবান হয় এবং সংঘাতের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে বরং অংশীদার হওয়া উচিত। আমাদের উচিত একে অপরের সাফল্য ও সমৃদ্ধিতে সহায়তা করা এবং এই নতুন যুগে বড় দেশগুলোর একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে চলার সঠিক পথ খুঁজে বের করা।
শি ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার ব্যাপারে তার গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং বলেন, আমি আপনার সঙ্গে একযোগে কাজ করতে চাই যাতে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের এই বিশাল জাহাজটিকে সঠিক পথে পরিচালিত করা যায় এবং ২০২৬ সালকে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়, যা সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.