রপ্তানিমুখী শিল্প, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের স্থানীয় সরবরাহকারীদের অর্থায়ন আরও সহজ করতে নতুন সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ব্যাক-টু-ব্যাক লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) এর আওতায় স্থানীয় সরবরাহের বিপরীতে স্বীকৃত ইউস্যান্স বা ডিফার্ড বিল বৈদেশিক মুদ্রায় মেয়াদপূর্তির আগেই কিনতে বা ডিসকাউন্ট করতে পারবে ব্যাংকগুলো।
মঙ্গলবার (১২ মে) জারি করা এক সার্কুলারের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন সংক্রান্ত বিধিমালায় এ সংশোধন আনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এতদিন এ সুবিধা কেবল বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের বিপরীতে ইউস্যান্স বিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল। নতুন নির্দেশনার ফলে প্রথমবারের মতো স্থানীয় সরবরাহকারীরাও একই ধরনের আগাম অর্থায়নের সুযোগ পাবেন।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্ক, প্রচলিত ব্যাংকিং চর্চা এবং যথাযথ যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে ব্যাংকগুলো স্বীকৃত ইউস্যান্স বা ডিফার্ড বিল ক্রয় বা ডিসকাউন্ট করতে পারবে। অর্থাৎ বিলের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থ পেয়ে যাবে।
ব্যাংকার ও ব্যবসায়ীদের মতে, এ সিদ্ধান্ত স্থানীয় সরবরাহ চেইনে তারল্য সংকট কমাতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে কাঁচামাল, অ্যাকসেসরিজ ও মধ্যবর্তী পণ্য সরবরাহে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। নতুন সুবিধার ফলে স্থানীয় সরবরাহকারীরা বিলের বিপরীতে দ্রুত অর্থ সংগ্রহ করতে পারবেন, যা তাদের চলতি মূলধনের চাপ কমাবে এবং নগদ প্রবাহ ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করবে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে রপ্তানিমুখী শিল্পে দ্রুত অর্থায়নে কাজ করবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ উদ্যোগ উৎপাদন ও সরবরাহ কার্যক্রমে গতি আনবে এবং স্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াবে।
ইউস্যান্স বিল
ইউস্যান্স বিল হলো- এমন একটি বাণিজ্যিক বিল, যেখানে পণ্য সরবরাহের পর সঙ্গে সঙ্গে নয়, নির্দিষ্ট সময় পরে টাকা পরিশোধ করা হয়। সাধারণত ৩০, ৯০ বা ১২০ দিনের সময়সীমা দিয়ে এ ধরনের বিল করা হয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ব্যাক-টু-ব্যাক এলসিতে ব্যবসায়ীদের নগদ চাপ কমাতে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
অর্থসূচকয



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.