দেশের অভ্যন্তরীণ নদীপথকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেছেন, নদীপথ উন্নত হলে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমবে, পণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তাসকীন আহমেদ বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথ ঐতিহাসিকভাবে শিল্পের কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহনের সবচেয়ে সাশ্রয়ী মাধ্যম। তবে নদীতে পলি জমে নাব্য সংকট, অবৈধ দখল এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে এ সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি নদীতীর পুনরুদ্ধার, পরিকল্পিত ড্রেজিং এবং নৌপথভিত্তিক অবকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।
ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, সরকারের আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার জলাশয় খননের লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে নৌ-চলাচল বাড়বে। পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমবে এবং সেচব্যবস্থা ও কৃষি উৎপাদনশীলতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এতে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
রাজধানীর যানজট নিরসনে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী নদীকে সংযুক্ত করে প্রায় ১১২ কিলোমিটার দীর্ঘ বৃত্তাকার নৌপথের কার্যকর ব্যবস্থাপনার প্রস্তাবও দেন তিনি। তার মতে, এই নৌপথকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করা গেলে এটি ঢাকার বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ লক্ষ্যে খাল খনন ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তায় পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলের আওতায় বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব দেন তাসকীন আহমেদ।
জবাবে পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ নদীপথ উন্নয়নে সরকার বদ্ধপরিকর এবং এ বিষয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, সরকার ঘোষিত দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচিতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। নদীপথের উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান এবং ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ড. একেএম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী উপস্থিত ছিলেন।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.