শেরেবাংলানগরে ১২তলা সরকারি অফিস ভবন নির্মাণে ব্যয় হবে ১০৮ কোটি টাকা

রাজধানীর শেরেবাংলানগর প্রশাসনিক এলাকায় ১২তলা বিশিষ্ট একটি আধুনিক সরকারি অফিস ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ১০৮ কোটি টাকার বেশি।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘শেরে-বাংলা নগর প্রশাসনিক এলাকায় ৩টি বেজমেন্টসহ ১২তলা অফিস ভবন নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ স্যানিটারি, পানি সরবরাহ ও বিদ্যুতায়ন কাজ’ শীর্ষক প্রকল্পের প্যাকেজ ডব্লিউ-০২-এর আওতায় এই নির্মাণ কাজটি বাস্তবায়িত হবে। প্রস্তাবটি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে উপস্থাপন করা হলে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি তা পর্যালোচনা করে অনুমোদন দিয়েছে।

জানা গেছে, উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি ইজিপিতে (অনলাইনে সরকারি ক্রয় পদ্ধতি) দরপত্র আহ্বান করা হলে ১৩টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। এর মধ্যে ৮টি দরপত্র কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

পরে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশে কারিগরি ও আর্থিকভাবে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান কুশলী নির্মাতা লিমিটেডকে কাজটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০৮ কোটি ৭০ লাখ ৬৬ হাজার ৪৪৪ টাকা ব্যয়ে প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করবে। পুরো অর্থ সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে।

‘ঢাকার শেরে-বাংলা নগর প্রশাসনিক এলাকায় বহুতল সরকারি অফিস ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় অনুমোদিত হয়।

প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭১ কোটি ৭২ লাখ ৯৩ হাজার টাকা।

প্রকল্পের আওতায় ৩টি বেজমেন্টসহ ১২ তলা বিশিষ্ট অফিস ভবন নির্মাণের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ স্যানিটারি, পানি সরবরাহ এবং বিদ্যুতায়ন কাজও সম্পন্ন করা হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসের ব্যয় বাড়ছে ১০ কোটি টাকা

এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস স্থাপনের লক্ষ্যে ভূমি উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ১০ কোটি ১৯ লাখ ৭২ হাজার টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

“জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস: ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন (১ম সংশোধিত)” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২০০ একর ভূমি উন্নয়ন কাজের জন্য মূল চুক্তির বাইরে আরও ১০ কোটি ১৯ লাখ ৭২ হাজার ৭২৫ টাকা ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে আসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে অনুমোদন দিয়েছে।

জানা গেছে, নতুন করে ব্যয় বাড়ানোর ফলে ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ মোট সংশোধিত চুক্তিমূল্য দাঁড়াচ্ছে ১৯৯ কোটি ৭৭ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬৫ টাকা। অর্থাৎ মূল চুক্তিমূল্য ১৮৯ কোটি ৫৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪০ টাকার তুলনায় এই ব্যয় বৃদ্ধি হয়েছে ১৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন এ প্রকল্পের মাধ্যমে রাজধানীর অদূরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসের জন্য ভূমি উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে।

২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদনের পর পাঁচটি প্যাকেজে ভূমি উন্নয়ন কাজের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়। চুক্তি অনুযায়ী কাজ চলমান অবস্থায় বাস্তব পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার ফলে এখন অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে।

জানা গেছে, ভূমির প্রকৃতি ও ভৌগোলিক অবস্থা প্রত্যাশিতের তুলনায় বেশি জটিল হওয়ায় কিছু নতুন কাজ যুক্ত করতে হয়েছে এবং কিছু কাজের পরিমাণে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে প্রকল্প এলাকার পুকুর, ডোবা ও জলাশয় বেশি থাকায় এবং মাটির গভীরতা তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় ভূমি উন্নয়ন কার্যক্রমে অতিরিক্ত প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়েছে।

এ কারণে সীমানা প্রাচীরকে স্থিতিশীল ও শক্তিশালী করতে ‘আর্থেন ড্যাম’ আইটেম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পাশাপাশি ভূমি সমতল ও ড্রেজিংয়ের জন্য মেকানিক্যাল কম্প্যাকশন পদ্ধতি যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া প্যালিসেডিং কাজকে শক্তিশালী করতে কাঠের বল্লা ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

জানা গেছে, এসব পরিবর্তন মূলত সাইটের বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় এনে করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে ভূমি ধস, পানিবদ্ধতা বা কাঠামোগত ঝুঁকি এড়ানো যায়।

প্রকল্পটির একনেক থেকে অনুমোদন পায় ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর। প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ অক্টোবর ২০১৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.