দি প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি তাদের ‘ডিপোজিট ও রিকভারি ক্যাম্পেইন ২০২৬’-এর আওতায় মাত্র ২৬ কর্মদিবসে ১১৪৪ কোটি টাকার নতুন আমানত সংগ্রহের এক অনন্য মাইলফলক অর্জন করেছে। গত ১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ কর্মসূচিতে ব্যাংকটি গ্রাহকদের কাছ থেকে অভাবনীয় সাড়া পেয়েছে। আমানত সংগ্রহের পাশাপাশি ব্যাংকটি ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রেও বড় সাফল্য দেখিয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম চার মাসে প্রায় ৫২৩ কোটি টাকার ক্যাশ রিকভারি বা খেলাপি ঋণ আদায় সফলভাবে সম্পন্ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বৃহস্পতিবার (৫ মে) ব্যাংকটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ অনলাইন সভায় এই অভাবনীয় সাফল্যের তথ্য জানানো হয়। এই পর্যালোচনা সভায় ব্যাংকের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ডা. আরিফুর রহমান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মনজুর মফিজ। এ ছাড়াও উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়ামত উদ্দিন আহমেদ, অমলেন্দু রায়, এস এম ওয়ালি উল মোর্শেদ এবং মোহাম্মাদ আল-আমীনসহ প্রধান কার্যালয়ের অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই ভার্চুয়াল সভায় অংশ নেন।
সভার বক্তব্যে চেয়ারম্যান ডা. আরিফুর রহমান এই অর্জনকে গ্রাহকদের গভীর আস্থার প্রতিফলন হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, প্রিমিয়ার ব্যাংক সব সময় গ্রাহকের বিশ্বাস ও আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। কর্মকর্তাদের এই সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে ব্যাংকটি দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারছে। এই ধরনের সাফল্য কেবল ব্যাংকের জন্য নয়, বরং দেশের সামগ্রিক আর্থিক খাতকে আরও সুসংহত ও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মনজুর মফিজ এই সাফল্যের নেপথ্যে টিমওয়ার্ক ও সঠিক পরিকল্পনাকে কৃতিত্ব দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, মাত্র ২৬ দিনে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার বেশি আমানত সংগ্রহ করা ব্যাংকটির কর্মীদের পেশাদারিত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গ্রাহকসেবা জোরদার করা, আমানত সংগ্রহে উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণ এবং প্রতিটি শাখার সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলেই এই লক্ষ্যমাত্রা দ্রুত সময়ের মধ্যে অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও একই উদ্যম বজায় রেখে ব্যাংকের উন্নয়নকে আরও গতিশীল করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সভায় চলমান ক্যাম্পেইনের সামগ্রিক অগ্রগতি ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক সূচকসমূহ বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। আলোচনায় উঠে আসে যে, মাঠপর্যায়ের শাখাগুলোর সাথে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনার নিবিড় সমন্বয়ের ফলে রিকভারি এবং ডিপোজিট—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাংকটি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছে। উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্য এবং উন্নত গ্রাহক অভিজ্ঞতার ওপর ভর করে প্রিমিয়ার ব্যাংক তাদের ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। এই অভাবনীয় অর্জন ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ যাত্রাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.