ভারতের সর্বদক্ষিণের রাজ্য কেরালার বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা শুরু হয়েছে আজ। সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, কেরালায় ক্ষমতাসীন সিপিএম থেকে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছে কংগ্রেস, অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ-আসামে জয়ের প্রত্যাশা থাকলেও দক্ষিণের এই রাজ্যে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বিজেপি।
কেরালার বিধানসভার মোট আসন ১৪০টি। ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত কেরালার বিধানসভা ছিল বামপন্থি দল কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্কসিস্ট) বা সিপিএমের দখলে। তবে এবারের নির্বাচনের ফলাফল এখন পর্যন্ত যা দেখা যাচ্ছে, সিপিএমের শাসন শেষ হওয়ার বার্তা মিলছে।
গত এপ্রিলে ভারতের চারটি রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, তামিলনাড়ু, কেরালা এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পদুচেরিতে বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। আসাম, তামিলনাড়ু, পদুচেরি ও কেরালায় ৯ এপ্রিল হয়েছিল ভোটগ্রহণ, আর পশ্চিমবঙ্গে ভোটগ্রহণ হয়েছে ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল— এই দুই দিনে।
কেরালার বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোট, সিপিএমের নেতৃত্বাধীন এলডিএফ জোট এবং বিজেপির মধ্যে। আজ কেরালায় স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৩০ মিনিট (বাংলাদেশ সময় ৭টা) থেকে শুরু হয়েছে ভোট গণনা।
এ পর্যন্ত গণনার ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিধানসভা নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে কংগ্রেস জোট এবং সিপিএম জোটের মধ্যে। এই দুই জোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে বিজেপি কার্যত কোনো প্রভাবই ফেলতে পারেনি।
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, কেরালার ১৪০টি আসনের মধ্যে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোট এগিয়ে আছে ৯৯টি আসনে, সিপিএমের নেতৃত্বাধীন এলডিএফ এগিয়ে আছে ৩৫টি আসনে এবং বিজেপি এগিয়ে আছে মাত্র ২টি আসনে। বাকি ৪টি আসনে এগিয়ে আছে অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
কেরালায় রাজ্য সরকার গঠন করতে হলে বিধানসভায় ন্যূনতম ৭১টি আসন প্রয়োজন। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা ১০ বছর কেরালা শাসন করেছে সিপিএম। বর্তমানে ভোটের ফলাফলের যে গতি-প্রকৃতি, তাতে নাটকীয় কোনো পরিবর্তন না ঘটলে কেরালায় চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে এককভাবে সরকার গঠনের পথে রয়েছে কংগ্রেস এবং বিরোধী দলে থাকছে সিপিএম। আর বিজেপির উপস্থিতি কেরালার বিধানসভায় থাকবে নামমাত্র।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.