রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে ৫৪ জন চিহ্নিত চাঁদাবাজসহ ১৪৮ গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। তিনি বলেন, শুক্রবার (১ মে) থেকে আমরা রাজধানীজুড়ে অভিযান শুরু করি। অভিযানে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে অপরাধীদের গ্রেফতার করা হয়।
রবিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে সরওয়ার বলেন, অপরাধীর পরিচয় শুধু অপরাধী। তার কোনও রাজনৈতিক পরিচয় গ্রহণযোগ্য নয়। কে কোন রাজনৈতিক পরিচয়ের সেটা আমাদের কাছে বিবেচ্য নয়। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে পরিষ্কার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এ বিষয়ে। ঢাকা মহানগরীকে অপরাধমুক্ত করতে আমাদের জিরো টলারেন্স ঘোষণা রয়েছে। আমাদের এখানে অপরাধ করে সে দেশের যেখানেই থাকুক আমরা ধরে নিয়ে আসবো।
কমিশনার বলেন, ডিএমপির প্রতিটি ইউনিট চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক ও অনলাইন জুয়া প্রচারকদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এটি চলমান থাকবে। ঢাকা মহানগরী আমাদের সবার। এই শহরের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা, স্বস্তি ও শান্তিপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রধান অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে গত ১ মে থেকে ডিএমপি মহানগরজুড়ে চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, অনলাইন জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, অবৈধ অস্ত্রের প্রদর্শন, অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত অভিযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিএমপি তাৎক্ষণিকভাবে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করে। আমাদের লক্ষ্য একটাই— অপরাধচক্রের মূল উৎপাটন, নাগরিক জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা এবং ঢাকাকে আরও নিরাপদ নগরীতে পরিণত করা। চিহ্নিত অপরাধপ্রবণ এলাকায় বিশেষ অভিযান ও আকস্মিক ব্লক রেইড পরিচালনা গোয়েন্দা নজরদারী ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অপরাধীদের পালানোর পথ বন্ধ করা হচ্ছে এবং সন্দেহভাজনদের তাৎক্ষণিক যাচাই করে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বিচারে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ডিবির সাদা পোশাকের সদস্য, সাইবার মনিটরিং টিম এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অপরাধীদের গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। অনলাইন জুয়া, প্রতারণা ও সংগঠিত অপরাধে প্রযুক্তিভিত্তিক তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। বাজার, টার্মিনাল, কাঁচাবাজার, ব্যবসাকেন্দ্র ও স্পর্শকাতর এলাকায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ ঝটিকা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত ডিএমপি কমিশনার বলেন, গত ৪৮ ঘণ্টার আমাদের উল্লেখযোগ্য বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৮ জন তালিকাভুক্ত এবং ৯৪ জন তালিকা বহির্ভূত চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে চাঁদা আদায়ের খাতা, লেনদেনের তথ্য, ভিডিও ক্লিপ এবং অন্যান্য আলামত। এছাড়া মাদক ও অস্ত্রবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে এবং সক্রিয় মাদক কারবারিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসঙ্গে অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অনলাইন জুয়া পরিচালনাকারী ও ডিজিটাল প্রতারণায় জড়িত চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়েছে। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল, সার্ভার, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। এছাড়াও এলাকাভিত্তিক নিরাপত্তা জোরদার, নাগরিকদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বসিলা ও কাওরান বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী ও অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এসব এলাকায় চাঁদাবাজি প্রতিরোধে বিশেষ মনিটরিং সেল কাজ করছে। বাজার ও জনবহুল স্থানে দৃশ্যমান পুলিশিং বৃদ্ধি করা হয়েছে, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকার নিরাপত্তা আরও সুসংহত করতে আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনায় ডিএমপি কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। অপরাধপ্রবণ নতুন নতুন এলাকা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে আরও পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে এবং মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, বাজার, সড়ক ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নতুন করে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে, যাতে দ্রুত অপরাধী শনাক্ত ও অপরাধ প্রতিরোধ সম্ভব হয়। এছাড়াও আগামী দিনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আমরা রাজধানীব্যাপী আরও জোরালো, তথ্যভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সমন্বিত বিশেষ অভিযান চালাবো।
ডিএমপি বিশ্বাস করে, অপরাধ দমন শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একক কাজ নয়; এটি একটি সমন্বিত সামাজিক দায়িত্ব। তাই আমরা নাগরিক অংশগ্রহণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছি। আপনাদের দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন সমাজকে সচেতন করে, অপরাধ প্রতিরোধে জনগণকে সম্পৃক্ত করে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ঢাকা মহানগরীর নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ একা নয়, নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। সন্দেহজনক ব্যক্তি, চাঁদাবাজি, মাদক, জুয়া বা প্রতারণা সংক্রান্ত তথ্য নিকটস্থ থানা বা ডিএমপি কন্ট্রোল রুমে জানানোর জন্য সবাইকে অনুরোধ করছি। প্রয়োজনে তথ্যদাতা সম্পর্কিত তথ্য গোপন রাখা হবে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.