ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল অর্থনীতির সময়ে দায়িত্ব নিয়েছে এই সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল অর্থনীতির সময়ে এই সরকার দায়িত্ব নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার ৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণ রেখে গেছে এবং দেশকে পুরোপুরি আমদানি নির্ভর করে ফেলেছিল। জনগণের ভোগান্তি না বাড়িয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত আছে। বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতিও বর্তমান সরকারের একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

আজ রোববার (৩ মার্চ) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

এর আগে সকাল সোয়া ১০টার পর সচিবালয়ে নিজ দফতর থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সম্মেলনস্থলে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় রাস্তার দুই ধারে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে তাদের অভিবাদনের জবাব দেন।

এসময় সুশাসন হবে বর্তমান সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলমত নির্বিশেষে রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এ সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এরই মধ্যে বিভিন্ন সেক্টর চিহ্নিত করে, সরকার দেশে বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কাজ শুরু করেছে। ইচ্ছামতো নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো, সিন্ডিকেট তৈরি, কৃত্রিম সংকট তৈরি রোধে নিয়মিত বাজার তদারকি করতে হবে।

এসময় জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদকে গুরুত্বপূর্ণ ভেবে, যেকোনো পদে কাজ করতে নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে জনপ্রশাসনে শূন্য পদে নিয়োগ দেয়া হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, তেমনি জনপ্রশাসনের কোনো পদও চিরস্থায়ী নয়। ‘দেশে দারিদ্র্য বেড়েছে, বেকারত্ব বেড়েছে। দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে ধংস করা হয়েছে। তবে জনগণের দুর্ভোগ না বাড়িয়ে সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করছে সরকার।’

জনপ্রশাসন সঠিকভাবে কাজ করলে জনরায়ের প্রতিফলন ঘটে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, জনরায়ের প্রতিফলন ঘটলে যে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব তা প্রমাণিত হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি। ডিসিদের কাজ করতে না দিলে নির্বাচনে কি হয় তা ১৪, ১৮ ও ২৪ সালে জাতি দেখেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনপ্রশাসনের সততা, কর্মদক্ষতা ও দায়বদ্ধতার ওপরই সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের সফলতা নির্ভর করে। সরকারের নীতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরা জনগণের সঙ্গে সরকারের প্রধান সেতুবন্ধন।

তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ বা পদোন্নতির জন্য পেশাদারত্বের সঙ্গে আপস করা সাময়িকভাবে লাভজনক মনে হলেও তা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর এবং জনপ্রশাসনকে দুর্নীতির দিকে ঠেলে দেয়।

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি দফা আমরা বাস্তবায়ন করব। নির্বাচনি ইশতেহার ও স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নে এ সরকার বদ্ধ পরিকর।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.