অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশে জাল নোটের প্রচলন কার্যকরভাবে রোধ করার লক্ষ্যে শক্তিশালী আইনগত কাঠামো, আধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য এবং সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে জাল নোটের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল করা সম্ভব হবে বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস করেন।
জাতীয় সংসদে চাঁদপুর-২ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. জালাল উদ্দিন কর্তৃক বিধি ৭১ এর আওতায় উত্থাপিত জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘জাল নোটের প্রচলন রোধে একটি খসড়া আইন প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে জাল নোট তৈরি বা এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। আইনটি কার্যকর হলে জাল নোটের প্রচলন নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং নির্মূলে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
নোটিশে নতুন ব্যাংক নোট এবং জাল নোট সংক্রান্ত উদ্বেগের বিষয় তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য উন্নত করছে এবং বাজারে পর্যাপ্ত মানসম্মত নোট সরবরাহ নিশ্চিত করছে। সরকার নীতিগত ও প্রযুক্তিগতÑউভয় দিক থেকেই এ সমস্যার সমাধানে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে পরামর্শ করে যেকোনো প্রযুক্তিগত সমস্যা পর্যালোচনা করা হবে। কোনো ঘাটতি পাওয়া গেলে তা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নতুন সিরিজের ব্যাংক নোট ইতোমধ্যে চালু হয়েছে, যা বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও স্থাপত্যকর্মের অনুপ্রেরণায় ডিজাইন করা হয়েছে। এসব ডিজাইন দেশের খ্যাতিমান শিল্পীদের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রা ও নকশা কমিটির সুপারিশে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২-এর ২৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী অনুমোদিত হয়েছে।
নতুন নোটগুলোতে পূর্বের তুলনায় উন্নত ও আধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি, এসব পরিবর্তন সম্পর্কে গণমাধ্যম ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জনগণকে অবহিত করা হয়েছে।
মুদ্রা ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং অচল নোট প্রত্যাহারের হার বিবেচনায় নিয়ে নোট ছাপানো হয়ে থাকে। জাতীয় মুদ্রার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় সরকার আইনগত, প্রযুক্তিগত এবং প্রশাসনিক সব ধরনের ব্যবস্থা আরও জোরদার করবে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.