বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে ৫ অগ্রাধিকার চিহ্নিত করেছে আঙ্কটাড

বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ শক্তিশালী করতে পাঁচটি অগ্রাধিকারমূলক সংস্কার ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আঙ্কটাড)। এসব সুপারিশ দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আগামী বছরগুলোতে টেকসই বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ভবনে প্রকাশ করা ‘আঙ্কটাড ইনভেস্টমেন্ট পলিসি রিভিউ ইমপ্লেমেনশন রিপোর্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), আঙ্কটাড ও বিডা যৌথভাবে এই প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে বক্তব্য দেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান রহমান রচি এবং ইউএনডিপির উপ-আবাসিক প্রতিনিধি সোনালি দায়ারত্নে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩ সালের ইনভেস্টমেন্ট পলিসি রিভিউয়ের পর বাংলাদেশ বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদি ও কাঠামোগত পরিবর্তন এখনো প্রয়োজন, বিশেষ করে ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের আগে। পাশাপাশি বৈশ্বিক বাণিজ্য ও ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সুবিধা ধীরে ধীরে প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে একটি মসৃণ উত্তরণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে প্রতিবেদনে পাঁচটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো—
একটি জাতীয় বিনিয়োগ নীতি এবং একীভূত বিনিয়োগ আইন প্রণয়ন, বিনিয়োগ প্রচার ও সহায়তা কার্যক্রম শক্তিশালী করা, লক্ষ্যভিত্তিক খাতে বিনিয়োগ উদ্যোগ বাড়ানো, বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা জোরদার এবং জমি ও অবকাঠামোতে প্রবেশাধিকার উন্নয়ন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশ এখনো আঞ্চলিক প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার তুলনায় বাংলাদেশের বিনিয়োগ প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ‘গিয়ার শিফট’ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। তিনি বলেন, এতদিন দ্বিতীয় গতিতে চললে এখন পঞ্চম গতিতে এগোতে হবে, তা না হলে বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রতিযোগিতা করা সম্ভব হবে না।

অনুষ্ঠানে ইউএনডিপির প্রতিনিধি স্টেফান লিলার বলেন, টেকসই বিনিয়োগ আকর্ষণে শক্তিশালী নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জরুরি।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.