ব্যয় বৃদ্ধি ও ডলার সংকটে চাপে স্টিল শিল্প, কর কমানোর দাবি

ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, ডলার সংকট, বিভিন্ন ধরনের ব্যয়বৃদ্ধি, বৈশ্বিক অস্থিরতা, সুদের হার বৃদ্ধি এবং কর হার বাড়ার কারণে দেশের স্টিল (রড) শিল্প বিগত কয়েক বছরে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএমএ) সভাপতি সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।

তিনি জানান, বিগত ৭ বছরে এই শিল্পে প্রতি ৯০ হাজার টাকা বিক্রির বিপরীতে সাধারণ আয়কর হিসেবে কর পরবর্তী নিট মুনাফা টিকছে মাত্র ৬৭৯ টাকা। আর অগ্রিম কর দিলে ১ হাজার ৫২৪ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জাতীয় বোর্ডের (এনবিআর) কাছে তিনি কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর কমানো, রড আমদানিতে টিডিএস (উৎসে আয়কর) আগের হারে নির্ধারণ, প্রস্তাবিত টার্নওভার ট্যাক্স অর্ধেকে নামানো এবং অগ্রিম আয়কর সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছেন।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় সংগঠনটি সভাপতি লিখিত আকারে এই প্রস্তাবগুলো পেশ করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।

প্রাক বাজেট প্রস্তাবনায় বিএসএমএ সভাপতি বলেন, স্টিল শিল্প একটি ভারী শিল্প। স্টিল উৎপাদন একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং এই উৎপাদনে প্রচুর মূলধন বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়। অথচ বিগত কয়েক বছরে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, কোভিড-১৯ মহামারি, অর্থনৈতিক মন্দা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, ডলার সংকটে এলসি খুলতে জটিলতা, বিনিয়োগজনিত লোকসান, চলতি মূলধনের প্রয়োজনীয়তা ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি, গ্যাসের মূল্য ৩০০ শতাংশ বৃদ্ধি, বিদ্যুতে ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি, ব্যাংকের সুদ হার বৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত এবং দেশের কাঠামো উন্নয়ন উল্লেখযোগ্য হরে কমে যাওয়ায় স্টিল শিল্পে প্রত্যক্ষ নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এতে বিগত ৭ বছর ধরে এই শিল্প টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, শিল্পের টিকে থাকা স্বার্থে আমরা স্টিলের কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) টনপ্রতি ৬০০ টাকার পরিবর্তে ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব করেন। এছাড়া রড বিক্রয়ের ক্ষেত্রে টিডিএস ২ শতাংশ থেকে ১ শতাংশ নির্ধারণ, প্রস্তাবিত টার্নওভার ট্যাক্স ১ শতাংশের পরিবর্তে দশমিক ৫০ শতাংশে নির্ধারণ এবং অগ্রিম আয়কর সমন্বয় অথবা ফেরত প্রদানের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

বিএসএমএ সভাপতি আরো বলেন, আমরা আমদানি পর্যায়ে ফেয়ারওয়েস্ট অ্যান্ড স্ক্র্যাপ ভ্যাট ১৮০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকায় নামানোর প্রস্তাব করছি। এছাড়া আমদানি পর্যায়ে ফেরো এলয়স রেগুলেটরি ডিউটি ১৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে এবং ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামানোর প্রস্তাব করছি।
এছাড়া তিনি শিল্পের আরো বিভিন্ন ধরনের ভ্যাট কমিয়ে আনার দাবি জানান প্রাক বাজেট প্রস্তাবনায়।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.