বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার মুখে জুলাইয়ের কথা বললেও কাজে অভ্যুত্থানের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে৷গণভোটের রায় নিয়ে বিএনপি জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। মনে রাখবেন জুলাই শুধু চব্বিশ সালে ছিল না, জুলাই প্রতিবছর ছিল। সে জুলাই আবার ফিরে আসবে, ইনশাআল্লাহ। তখন ফাইনালি ফ্যাসিবাদের কবর রচনা হবে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) জুলাই যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের জাতীয় সমাবেশে প্রধান অতিথ হিসবে বক্তব্য রাখার সময় এ অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হোক, জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখান, ৭০ ভাগ মানুষের রায় মেনে নিন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন। আর যদি তা না করেন, আমাদের লড়াই সংসদের ভেতরেও চলবে, খোলা ময়দানেও চলবে, ইনশাআল্লাহ।
ডা. শফিক বলেন, গতকাল আপনারা দেখেছেন জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্য অধ্যাপক মাসুম মোস্তফার ওপর হামলা করা হয়েছে, গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে, তার সহযোদ্ধা-সহযোগীদের নাজেহাল করা হয়েছে—এটা কোন বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ কি আমরা চেয়েছিলাম? আপনাদের সন্তানদের পায়ের গোড়ালি দুই টুকরো করা হোক, আপনা কি চেয়েছেন? এই বাংলাদেশকে আমরা ধিক্কার জানাই, এ বাংলাদেশ আমরা চাই না। আমরা পরিবর্তনের বাংলাদেশে চাই।
জামায়াত আমির বলেন, যে বাংলাদেশে শিশু-কিশোর, নারী-বৃদ্ধ ঘর থেকে বের হলে বুক দুরু দুরু করে কাঁপবে না, আমরা সেরকম বাংলাদেশ চাই। তারা নিরপাত্তার সঙ্গে বের হবে, কাজ শেষ করে আবার নিরাপত্তার সঙ্গে ঘরে ফিরবে, আমরা ওই বাংলাদেশ চাই। আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমাদের সন্তানদের হাতে দা-ক্রিচ কুড়াল দেখতে চাই না। আমরা খাতা-কলম দেখতে চাই। কোনো আদুভাই, দাদুভাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমাদের সন্তানদের ওপর হামলা করুক, আমরা এটি দেখতে চাই না।
এ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানান, রাজপথে ঐক্যবদ্ধ থেকে জুলাই সনদের পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করবে ১১ দলীয় ঐক্য।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জুলাই যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের জাতীয় সমাবেশ। তীব্র গরম উপেক্ষা করে এ কর্মসূচিতে যোগ দিতে সারা দেশ থেকে আসেন অভ্যুত্থানে অবদান রাখা কয়েক হাজার মানুষ।
আগতদের বক্তব্যে উঠে আসে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষার কথা। সরকারের প্রতি দাবি তোলেন জুলাই সনদের পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.