সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন ক্রুড নিয়ে বাংলাদেশের পথে এমটি নিনেমিয়া

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মধ্যে সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন ক্রুড নিয়ে বাংলাদেশের পথে রওয়ানা দিয়েছে ট্যাংকার জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বাংলাদেশের স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় জাহাজটি ইয়ানবু বন্দর থেকে যাত্রা করে। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শরীফ হাসনাত।

তবে, জাহাজটি কবে বাংলাদেশে পৌঁছাবে সে বিষয়ে নিশ্চিত করা হয়নি। এর আগে ক্রুড অয়েল সংকটে পড়ে রাষ্ট্রীয় একমাত্র পেট্রোলিয়াম জ্বালানি পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড-এর মূল প্ল্যান্ট বন্ধ হয়ে যায়। এবার ক্রুডের জাহাজ আসার খবরে পরিশোধনাগারটি নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা কাটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর-এ আটকা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী আরেক জাহাজের বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রার বিষয়ে এখনো নিশ্চয়তা নেই।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানায়, দেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এরমধ্যে ৯২ শতাংশ আমদানি করতে হয় এবং অবশিষ্ট ৮ শতাংশ স্থানীয় উৎস থেকে আসে। সরবরাহকৃত জ্বালানির মধ্যে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি পরিশোধন করে ইআরএল।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি তেল বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে পরিবহন খাতে ব্যবহার হয়েছে ৬৩ দশমিক ৪১ শতাংশ, কৃষিতে ১৫ দশমিক ৪১ শতাংশ, শিল্পে ৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ, বিদ্যুতে ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ, গৃহস্থালীতে শূন্য দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে ২ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

ব্যবহৃত জ্বালানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ডিজেল—৪৩ লাখ ৫০ হাজার ৭৫ টন, যা মোট বিক্রির ৬৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এছাড়া ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন, জেট ফুয়েলসহ অন্যান্য পণ্যও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ব্যবহৃত হয়েছে। দেশের মোট ২৭টি ডিপোর মাধ্যমে এসব জ্বালানি সরবরাহ করা হয়।

ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ব্যবহৃত শতভাগ ক্রুড আমদানি করতে হয়। বাংলাদেশ জিটুজি পদ্ধতিতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসব ক্রুড আমদানি করে এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) সেগুলো পরিবহন করে।

বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি। এ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে এবং বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এ পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা ও ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার কারণে এ অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়ে গেলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দামে প্রভাব পড়ে এবং বাংলাদেশেও জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
এই পরিস্থিতিতে বিকল্প উপায়ে সৌদি আরব থেকে ক্রুড আনার উদ্যোগ নেয় বিপিসি। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই ‘এমটি নিনেমিয়া’ জাহাজে করে নতুন চালানটি দেশে আনা হচ্ছে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.