সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)-এর গবেষণায় বলা হয়, এলডিসি উত্তরণের প্রক্রিয়া বাংলাদেশের জন্য একদিকে সুযোগ, অন্যদিকে চ্যালেঞ্জ। সঠিক কাঠামোগত সংস্কার না হলে শুল্ক সুবিধা হারানোর ঝুঁকি অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে চামড়া খাতে পরিবেশগত মান, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন ঘাটতির কারণে উচ্চমূল্যের বাজারে প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) প্রতিষ্ঠানটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) এবং অস্ট্রেলিয়ান সরকারের ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ট্রেড (ডিএফএটি)-এর যৌথ উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর: বাণিজ্য, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ও কাঠামোগত সংস্কার’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) ঢাকার ব্র্যাক সেন্টার ইনের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে নীতিনির্ধারক, বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ, উন্নয়ন কর্মী, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, ব্যবসায়িক সমিতি এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা একত্রিত হন।
জ্ঞান বিতরণ অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান রচিত ছয়টি নীতি গবেষণাপত্রের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। এই গবেষণাপত্রগুলো অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের সাথে সানেমের চলমান প্রজেক্টের অংশ, যেখানে অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কাঠামোগত সংস্কার-সংক্রান্ত দশটি নীতি গবেষণাপত্র প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আব্দুর রহিম খান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের ডেপুটি হাই কমিশনার ক্লিনটন পবকে।
আলোচনায় এলডিসি উত্তরণ, বাণিজ্য নীতি, শিল্পনীতি, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি, চামড়া শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে অপরিবর্তিত থাকায় বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় চাপ বাড়ছে, যেখানে ভিয়েতনামের মতো দেশ দ্রুত বৈচিত্র্য আনতে সক্ষম হয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়, এলডিসি উত্তরণের প্রক্রিয়া বাংলাদেশের জন্য একদিকে সুযোগ, অন্যদিকে চ্যালেঞ্জ। সঠিক কাঠামোগত সংস্কার না হলে শুল্ক সুবিধা হারানোর ঝুঁকি অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে চামড়া খাতে পরিবেশগত মান, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন ঘাটতির কারণে উচ্চমূল্যের বাজারে প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনায় দেখা যায়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়ালেও অভ্যন্তরীণ সংস্কার ছাড়া কাঙ্ক্ষিত লাভ অর্জন সম্ভব নয়। ভূরাজনৈতিক সংঘাতের কারণে রপ্তানি হ্রাস ও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকিও উল্লেখ করা হয়।
উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কাঠামোগত দুর্বলতা, জ্বালানি সংকট, বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা এবং দক্ষতা ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। তারা বাণিজ্য উদারীকরণ, কর ব্যবস্থার সংস্কার, বন্ড মার্কেট উন্নয়ন এবং এসএমই খাতে অর্থায়ন বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এলডিসি উত্তরণ স্থগিতের বিতর্কের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রস্তুতিমূলক সংস্কার বাস্তবায়ন। তারা বলেন, তিন বছরের অতিরিক্ত সময় থাকলেও সেটিকে স্পষ্ট অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে কাজে লাগাতে হবে।
অনুষ্ঠানের মূল বার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর শুধুমাত্র নীতি ঘোষণার বিষয় নয়; বরং বাণিজ্য, শিল্প ও আর্থিক খাতের সমন্বিত ও ধারাবাহিক সংস্কারের ওপর নির্ভরশীল। সঠিক কৌশল গ্রহণ করা গেলে এই রূপান্তর অর্থনীতির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.