সব ইরানি বন্দর অবরুদ্ধ করার হুমকি মার্কিন বাহিনীর
ইরানের সব বন্দর অবরোধের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সমারিক বাহিনী ঘোষণা দিয়েছে, তারা সোমবার থেকে ইরানের সব বন্দর অবরোধ শুরু করবে। পাকিস্তানে লম্বা শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ার পর তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে এটি তাদের সর্বশেষ পদক্ষেপ।
এই অবরোধের সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে হওয়া আলোচনার ব্যর্থতার পর এসেছে, যা নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সময় রোববার সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিবৃতিতে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ১৩ এপ্রিল (সোমবার) সকাল থেকে এই অবরোধ কার্যকর হবে। এতে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশ বা প্রস্থানকারী সব দেশের জাহাজ অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যার মধ্যে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের জাহাজও রয়েছে।
তবে সেন্টকম বলেছে, অ-ইরানি বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের স্বাধীনতায় তারা বাধা দেবে না। এটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের বক্তব্য থেকে কিছুটা সরে আসা বলে মনে করা হচ্ছে, যেখানে তিনি পুরো প্রণালী অবরোধের হুমকি দিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক জানাচ্ছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী তথ্য এসব তথ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের দাম ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪.২৪ ডলারে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দামও ৭ শতাংশ বেড়ে ১০২.২৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পথ দিয়ে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। বর্তমানে সেখানে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে
ইরান নিজেদের জাহাজ চলাচল অব্যাহত রেখেছে এবং সীমিত আকারে অন্যান্য দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে। যুদ্ধ শেষে টোল ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও তারা আলোচনা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ হুমকির জবাবে ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বলেছে, কোনো সামরিক জাহাজ এগিয়ে এলে তা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হবে এবং কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রকে দোষারোপ করে বলেছেন, যখন একটি সমঝোতা স্মারক প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে আলোচনায় বাধা সৃষ্টি করেছে।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.