ইরানে হামলা চলবে: নেতানিয়াহু

বর্তমানে বিরতি অবস্থায় থাকলেও ইরানে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এখনও শেষ হয়নি বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। গতকাল শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বৈঠক চলার সময় এক ভিডিওবার্তায় এই সতর্কতা দেন তিনি।

ভিডিওবার্তায় হিব্রু ভাষায় নেতানিয়াহু বলেন, ইরানে ইসরায়েলের অভিযান এখনও শেষ হয়নি, তাদের এখনও অনেক কিছু করার আছে। তবে এ পর্যন্ত অর্জনগুলোকে তিনি ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেন।

ভিডিওবার্তায় ইরানে সামরিক অভিযান এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা খামেনিকে হত্যার কারণও ব্যাখ্যা করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। একবার এই সক্ষমতা অর্জিত হলে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক পরমাণু অস্ত্র তৈরি সম্ভব হতো, যা ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াত।

তিনি আরও বলেন, আয়াতুল্লাহ খামেনি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও পরমাণু বোমা কর্মসূচিকে মাটির গভীরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করেছিলেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের বি-টু বোমারু বিমান এসব স্থাপনায় আঘাত হানতে না পারে। এ পরিস্থিতিতে চুপ করে থাকা সম্ভব ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির দ্বন্দ্ব চলছে। এ বিষয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ চলে, যা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।

এর পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে অপারেশন এপিক ফিউরি শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। একই সময়ে ইসরায়েলও অপারেশন রোয়ারিং লায়ন নামে সামরিক অভিযান শুরু করে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিনেই নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, যিনি টানা ৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। ওই হামলায় তার পরিবারের একাধিক সদস্যও নিহত হন এবং মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হন।

সংলাপ ও কূটনৈতিক পন্থায় উত্তেজনা কমাতে গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এর ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হলেও তা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়।

শনিবারের ভিডিওবার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী ইতোমধ্যে অনেক সাফল্য অর্জন করেছে এবং সামনে আরও সাফল্য অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে। ইরানে এখনও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, হয় চুক্তির মাধ্যমে এই উপাদান অপসারণ করা হবে, নয়তো অন্য উপায়ে তা সরানো হবে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.