কমছে বন্ড অডিটের ঝামেলা, স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের আওতায় আনার পরিকল্পনা এনবিআরের

প্রতি বছর বন্ড অডিটের ঝামেলা কমাতে এটিকে একটি স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান জানিয়েছেন, জটিল ও সময়সাপেক্ষ নিয়মগুলো সহজ করার মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। বড় ডিফল্ডারদের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তবে নিয়মিত করদাতাদের জন্য নিয়মকানুন সহজ ও স্বচ্ছ রাখা হবে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে নগরীর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রাক-বাজেট মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় চেম্বার সদস্য ও ব্যবসায়ীরা শুল্ক, ভ্যাট ও আয়করসহ বাজেটে অন্তর্ভুক্তির জন্য তাদের মতামত, পরামর্শ ও সুপারিশ তুলে ধরেন।

মো. আব্দুর রহমান খান বলেন, ট্যাক্স ফেরত ও ভ্যাট ফেরতের ক্ষেত্রে অটোমেশন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার পর ভ্যাট ক্লেইম যাচাই করে সমস্যা না থাকলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাকাউন্টে চলে যাবে। আয়কর ক্ষেত্রেও এখন কর্মকর্তারা রপ্তানি-আমদানি তথ্য দেখতে পাচ্ছেন, তাই কেউ তথ্য গোপন করতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, রাজস্ব আদায় যৌক্তিক ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে করা হবে, যাতে নিয়মিত করদাতাদের সুবিধা নিশ্চিত হয়।

সভায় ব্যবসায়ীরা নতুন শিল্পে গ্রিন এনার্জি ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য ভ্যাট ও কর ছাড়, প্রণোদনা দেওয়ার সুপারিশ করেন। এছাড়া অতিরিক্ত আগাম কর দ্রুত ও সহজে ফেরত দেওয়ার দাবি জানান, যাতে ব্যবসায়ীদের নগদ প্রবাহ সচল থাকে।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রশাসক মো. মোতাহার হোসেন সভায় বলেন, সাধারণ করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করা উচিত। করহার ১ম ধাপে ৫-৭.৫% এবং ২য় ধাপে ১০-১২.৫% করার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। এছাড়া ভ্যাট অডিট প্রক্রিয়া সহজ করতে আলাদা উইং গঠন ও পেশাদার জনবল নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন।

সভায় ব্যবসায়ীদের পক্ষে মো. মোতাহার হোসেন একগুচ্ছ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি যারা রাজস্ব দেন অর্থাৎ শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও করদাতাদের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। নিয়ম মেনে যারা নিয়মিত কর প্রদান করছেন, তাদের ওপর করের বোঝা না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

অ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্স সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি আমদানি পর্যায়ে কাঁচামালের ওপর কর্তন করা হয়। বর্তমান কর কাঠামোয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যত ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ক্ষয়ের শিকার হচ্ছে। প্রদেয় এআইটি ফেরত পাওয়ার কথা থাকলেও রিফান্ড প্রক্রিয়া জটিল। এছাড়া আমদানি পর্যায়ে প্রদত্ত এআইটি ট্যাক্সের সঙ্গে সমন্বয় না করে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা হয়। ফলে আমদানিকারকদের জমা করা অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকে না।

ভ্যাট অডিট প্রক্রিয়া জটিল উল্লেখ করে চেম্বার প্রশাসক বলেন, বর্তমানে একটি ফাইল ভ্যাট অডিট করতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লাগে। তাই ভ্যাট অডিটের জন্য একটি আলাদা উইং গঠন করে দক্ষ ও পেশাদার জনবল নিয়োগ দিয়ে সারা বছর স্বচ্ছতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হলে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। এতে ভ্যাট রিফান্ড প্রক্রিয়াও সহজ হবে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.