বর্তমানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করতে ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী শুক্রবার ইসলামাবাদে আলোচনা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের শর্তে আলোচনায় রাজি হওয়াকে ইরানের বিজয় হিসেবে দেখা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ।
বুধবার (৮ এপ্রিল) টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে মেদভেদেভ ট্রাম্পের একদিন আগে ঘোষণা করা যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে সর্বপ্রথম সাধারণ বুদ্ধির জয় হয়েছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানি সভ্যতা ধ্বংস সংক্রান্ত বক্তব্যে তা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
তিনি বলেন, একই সঙ্গে, ট্রাম্পের ১০ দফা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে সম্মত হওয়াটাই ইরানিদের জন্য একটি বিজয়। তিনি আরও বলেন, এখন প্রশ্ন হলো, ওয়াশিংটন আদৌ এই প্রস্তাবে সম্মত হবে কি না।
মেদভেদেভ দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি মেনে নেবে না, যার ফলে আবার সংঘাত শুরু হতে পারে। তবে তিনি একটি মধ্যবর্তী বিকল্পের কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ট্রাম্প দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চালাতে অনিচ্ছুক এবং অক্ষম, আর মার্কিন কংগ্রেসও তাকে সমর্থন দেবে না। তাই একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে হবে এবং সবাইকে এমন ভান করতে হবে যেন সবকিছু ঠিক আছে। কারণ এই খেলায় প্রতিটি পদক্ষেপই জুগজওয়াং এর মতো পরিস্থিতি তৈরি করছে।
মেদভেদেভ আরও বলেন, ঘোষিত যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল নিজস্ব পদক্ষেপ নিতে পারে। তার মতে, ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতির প্রয়োজন নেই এবং তাদের নিজস্ব সমস্যাগুলো এখনো সমাধান হয়নি, ফলে পরিস্থিতি অত্যন্ত অনিশ্চিত।
ট্রাম্প মঙ্গলবার ৭ এপ্রিল ঘোষণা করেন যে, তিনি দুই সপ্তাহের জন্য ইরানের ওপর বোমা হামলা ও আক্রমণ স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছেন।
ট্রাম্প নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার দুই ঘণ্টারও কম সময় আগে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তখন হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং একটি চুক্তি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। হরমুজ না খুললে সম্পূর্ণ একটি সভ্যতা ধ্বংস করারও হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়ে যায়। এতে ১৬০৪ জনের বেশি মানুষ নিহত হন, যার মধ্যে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও রয়েছেন।
এর জবাবে ইসরায়েল ছাড়াও জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর পাশাপাশি তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলেও সীমাবদ্ধতা আরোপ করে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.