জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রভিত্তিক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করা জরুরি বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য সেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) পালিত হচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬। এ উপলক্ষে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর সঠিক সংখ্যা, বয়সভিত্তিক তথ্য এবং টিকাদানের আওতা সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য না থাকলে স্বাস্থ্যখাতে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
তারা জানান, অনেক শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থেকে যায়, যা সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। একইভাবে মৃত্যুর সংখ্যা ও কারণ সম্পর্কিত নির্ভুল তথ্যের অভাবে রোগ মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়ে। বর্তমানে দেশে অর্ধেকেরও বেশি মানুষ নিবন্ধনের আওতার বাইরে রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রভিত্তিক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি। একটি শক্তিশালী নিবন্ধন ব্যবস্থা সরকারকে হালনাগাদ তথ্য সরবরাহ করে, যা মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং স্বাস্থ্যসংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।
এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রভিত্তিক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করে শতভাগ নিবন্ধনের দিকে এগিয়েছে। বাংলাদেশেও জন্ম নিবন্ধনের দায়িত্ব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অর্পণ করা হলে অধিকাংশ শিশু স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধনের আওতায় আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এতে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করা সম্ভব হবে, যা স্বাস্থ্যখাতের পরিকল্পনা ও সেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে এক প্রতিক্রিয়ায় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, নিবন্ধনকে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রভিত্তিক করার মাধ্যমে সহজেই একটি নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্য তথ্যভান্ডার তৈরি করা সম্ভব, যা দেশে শক্তিশালী ও টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.