চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এসে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হোঁচট খেয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে প্রায় ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও পরবর্তী তিন মাসে তা কমে ৩ শতাংশে নেমে এসেছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) অক্টোবর–ডিসেম্বর প্রান্তিকের জিডিপি তথ্য প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ০৩ শতাংশে, যা আগের প্রান্তিকে ছিল ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবেও অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে শুরু হওয়া ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বিভিন্ন দেশে জ্বালানি ব্যবহারে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে, দেশের পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
জিডিপি প্রবৃদ্ধি একটি দেশের অর্থনীতির সামগ্রিক উৎপাদন আগের সময়ের তুলনায় কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে, তার পরিমাপক। নির্দিষ্ট সময়ে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার মোট আর্থিক মূল্যই জিডিপির আকার নির্ধারণ করে। সাধারণত প্রবৃদ্ধি বাড়লে মানুষের আয় বৃদ্ধি পায় এবং অর্থনীতি সচল থাকে। তবে প্রবৃদ্ধির সুফল সবার মধ্যে সমানভাবে পৌঁছায় না, ফলে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, অক্টোবর–ডিসেম্বর প্রান্তিকে শিল্প খাতে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২৭ শতাংশে। কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সেবা খাতের প্রবৃদ্ধির ওপর ভর করেই মূলত সার্বিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা টিকে আছে।
অর্থসূচক/



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.