বৈদেশিক মুদ্রা, ঋণ ও রপ্তানি উন্নয়নের সুপারিশ এফবিসিসিআই’র

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে গঠিত রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) দ্বিগুণ করে ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি (এফবিসিসিআই)। সভায় প্রধানত বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ, ঋণের শর্ত, সুদের হার, ইডিএফ তহবিল ও ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পের সহায়তা বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে এ দাবি তুলে ধরেন ব্যবসায়ী নেতারা।

আফরোজ হোসেন জানান, রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল দ্বিগুণ করে পাঁচ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা এবং সব রপ্তানি খাতের জন্য তা উন্মুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একক ঋণসীমা বর্তমানের তুলনায় পঁচিশ শতাংশে বৃদ্ধি, সুদের হার এক অঙ্কে রাখা, ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও ব্যবসায় পুনঃতফশিল, সহজ শর্তে ঋণ এবং প্রণোদনা প্রদানের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সভায় বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি ও উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার জন্য ডলার সরবরাহ নিশ্চিত করা, ওভার-ইনভয়েসিং প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তথ্য সমন্বয়ের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

জনাব তুহিন আহমেদ বলেন, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও সংস্কার জরুরি। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার পদক্ষেপ নেওয়া এবং সরকারি ঋণের চাপ কমিয়ে উৎপাদন খাতে ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি করা গুরুত্বপূর্ণ।

সভায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, নারী উদ্যোক্তাদের ব্যাংকিং সুবিধা বৃদ্ধি, হেল্পডেস্ক চালু, সহজ শর্তে জামানতহীন ঋণ প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি আমদানি ব্যয় কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি বৈঠকে বিশেষ কমিটি গঠনেরও সুপারিশ করেছে, যা শিল্প খাতের ব্যাংকিং সমস্যা দ্রুত সমাধানে কাজ করবে।

গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং কাঁচামাল ও জ্বালানি ব্যয়ের বৃদ্ধি দেশের শিল্প ও রপ্তানি খাতকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব হলো ঋণ প্রবাহ, ব্যাংকিং শৃঙ্খলা ও নীতিগত সহায়তা বৃদ্ধি করে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করা।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.