সরকারি গুদামে ১৯.২০ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী
দেশে সরকারি গুদামে বর্তমানে ১৯ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। এই মজুদ আরও বাড়াতে সরকার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় উৎস থেকে খাদ্যশস্য সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
আজ সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী । সরকারি দলের সদস্য এ.এম. মাহবুব উদ্দিন খোকনের (নোয়াখালী-১) টেবিলে উপস্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য দেন।
খাদ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ৩০ মার্চ পর্যন্ত সরকারি খাদ্যগুদামে মোট ১৯ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। এর মধ্যে চাল রয়েছে ১৫ লাখ ৭৯ হাজার মেট্রিক টন এবং গম ৩ লাখ ৩৯ হাজার মেট্রিক টন। সরকার বিদেশ থেকে চাল ও গম আমদানির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ উৎস থেকেও খাদ্যশস্য সংগ্রহের মাধ্যমে মজুদ বাড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তি এবং উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে আমদানি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বোরো ও আমন মৌসুমে সরকার নির্ধারিত দামে চুক্তিবদ্ধ চালকল এবং কৃষি সহায়তা কার্ডধারী প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান ও চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ক্রয় প্রসঙ্গে তিনি জানান, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ৬ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির জন্য চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৫ লাখ মেট্রিক টন উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এবং ১ লাখ মেট্রিক টন জি-টু-জি ব্যবস্থায় আমদানি করা হচ্ছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৩ লাখ মেট্রিক টন চাল দেশে পৌঁছেছে এবং বাকি ৩ লাখ মেট্রিক টন শিগগিরই পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গম আমদানির ক্ষেত্রে মোট ৭ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানির চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ হাজার মেট্রিক টন উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এবং ৬ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন যুক্তরাষ্ট্র থেকে জি-টু-জি ব্যবস্থায় আমদানি করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৫ লাখ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন গম দেশে এসেছে এবং বাকি ১ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিদর্শন কমিটি (এফপিএমসি) দেশের খাদ্যশস্য সংগ্রহ নীতিমালা নির্ধারণ করে থাকে। আগামী ২০২৬ সালের বোরো সংগ্রহ মৌসুম (মে থেকে আগস্ট) উপলক্ষে সরকার অভ্যন্তরীণভাবে ৫ লাখ মেট্রিক টন ধান এবং ১২ থেকে ১৩ লাখ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়েছে। এছাড়া, ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও প্রয়োজন অনুযায়ী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় উৎস থেকে খাদ্যশস্য সংগ্রহ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.