যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে আরও চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। দক্ষিণ ইরানের পাহাড়ি যে এলাকায় মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্রু নিখোঁজ হয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল, সেখানেই বিমান হামলার ঘটনাটি ঘটে বলে জানান তারা।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের নিয়ন্ত্রণাধীন বার্তা সংস্থা তাসনিমের এক খবরে স্থানীয় গভর্নরের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমাদ প্রদেশের পার্বত্য এলাকায় হামলায় তিনজন নিহত ও আরও বেশ কয়েকজন আহত হন।
পরে প্রদেশটির ডেপুটি গভর্নর ফাত্তাহ মোহাম্মদী স্থানীয় ইরানি গণমাধ্যমকে জানান, হামলার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে চার হয়েছে।
তবে নিখোঁজ মার্কিন ক্রু’কে উদ্ধার পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের সঙ্গে হামলার ঘটনাটির আদৌ কোনো সম্পর্ক আছে কি-না, সেটি এখনও স্পষ্ট নয়।
এদিকে, ইরানের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) সেনারা মার্কিন একটি ড্রোনকে গুলি করে ভূপাতিত করেছে। নিখোঁজ ক্রু’র সন্ধান পেতে ড্রোনটি ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে খবরে দাবি করা হয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে আইআরজিসি’র জনসংযোগ দপ্তরও জানিয়েছে যে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ইসফাহান প্রদেশে একটি মার্কিন ড্রোন বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইরানে গুলিতে ভূপাতিত মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় যে ক্রু’কে গত দু’দিন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না, তাকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। উদ্ধার হওয়া মার্কিন ক্রু ‘নিরাপদ ও সুস্থ’ আছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
অভিযানে মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘কয়েক ডজন বিমান’ পাঠিয়েছিল বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে সেনাদের কেউ হতাহত হননি বলে জানান।
ইরান বলছে, মার্কিন ক্রু’র সন্ধান পেতে তল্লাশি চালানোর সময় একটি মার্কিন ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে এবং শুক্রবারের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, কয়েকজন ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্ল্যাক হক’ হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছেন।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.