১৬০টির বেশি ড্রোন ও যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত শত্রুপক্ষের অনুপ্রবেশকারী ১৬০টিরও বেশি ড্রোনের পাশাপাশি উন্নত যুদ্ধবিমান ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। শনিবার (৪ এপ্রিল) ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর জয়েন্ট হেডকোয়ার্টার্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা এলহামি ওই দাবি করেন।

ইরানের সেনাবাহিনী ও ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী-এর আকাশ প্রতিরক্ষা অবস্থানগুলো পরিদর্শনের সময় তিনি বলেন, ইরানি ইউনিটগুলো সফলভাবে শত্রুদের কয়েকটি উন্নত যুদ্ধবিমান, ১৬০টিরও বেশি ড্রোন ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে এমকিউ-৯, হার্মিস ও লুকাস মডেলের ড্রোন এবং কয়েক ডজন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে।

তিনি বলেন, শত্রুরা কোনো আক্রমণাত্মক অভিযান চালানোর আগেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা হামলাকারীদের ‘কাল্পনিক প্রচারণা’ ভেঙে দিয়েছে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এলহামি আরও বলেন, ইরানি বাহিনী শত্রুপক্ষের বিমান ও ড্রোনের জন্য ওত পেতে আছে। সেনাবাহিনী এবং আইআরজিসি ইউনিট শত্রুপক্ষের একাধিক চতুর্থ ও পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্যবস্তু ও ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে—যা কৌশলগত দক্ষতা, আধুনিক সরঞ্জামের উদ্ভাবনী ব্যবহার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নৈপুণ্যের ফল। এতে শত্রু বাহিনী বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, সেনাবাহিনী ও আইআরজিসির সব আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক ঐক্যবদ্ধ এবং যেকোনো মূল্যে দেশের আকাশসীমা রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করে। এতে এখন পর্যন্ত দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-সহ ১ হাজার ৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

এর জবাবে ইরান ইসরায়েলসহ জর্ডান, ইরাক এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব পাল্টা হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বিশ্ববাজার এবং বিমান চলাচলেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

অর্থসূচক/

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.