পাকিস্তানে জ্বালানির দাম ৪৩ শতাংশ বাড়লো

ইরানে চলমান যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পাকিস্তানেও এর প্রভাব পড়েছে। রাতারাতি পেট্রোলের দাম ৪৩ শতাংশ এবং হাই-স্পিড ডিজেলের দাম ৫৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারি কোষাগারে সম্পদের সীমাবদ্ধতা এবং চলমান যুদ্ধের কোনো নিশ্চিত সমাপ্তি না থাকায় এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তান তার জ্বালানি চাহিদার বড় একটি অংশের জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল, যার বড় চালান আসে হরমুজ প্রণালি হয়ে। সম্প্রতি ইরান এই রুটটি কার্যত বন্ধ করে দিলেও পাকিস্তান সরকারের দাবি, তারা ইরানের সাথে আলোচনার মাধ্যমে পাকিস্তানি পতাকাবাহী জাহাজগুলোর জন্য নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করতে সক্ষম হয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর পর পাকিস্তানে এটি দ্বিতীয় দফায় দাম বৃদ্ধি। সব মিলিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় দেশটিতে বর্তমানে পেট্রোল ৭৭ শতাংশ এবং ডিজেল ৮৭ শতাংশ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমাতে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ভর্তুকিও ঘোষণা করেছে পাকিস্তান সরকার। আগামী তিন মাস পর্যন্ত প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ২০ লিটার পেট্রোলের ওপর প্রতি লিটারে ১০০ রুপি ভর্তুকি পাবেন মোটরসাইকেল আরোহীরা।

আন্তঃনগর বাস ও গণপরিবহনের জন্য লিটার প্রতি ১০০ রুপি এবং যাত্রীবাহী বাস সার্ভিসের জন্য মাসে সর্বোচ্চ এক লাখ রুপি পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়া হবে। ট্রাকসহ পণ্যবাহী যানবাহনের জন্য মাসে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার রুপি পর্যন্ত জ্বালানি ভর্তুকি বরাদ্দ করা হয়েছে। আর কৃষিখাতে ক্ষুদ্র চাষিদের জন্য ফসল কাটার মৌসুমে এককালীন একর প্রতি এক হাজার ৫০০ রুপি অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এছাড়া রেলের ভাড়া নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাকিস্তান রেলওয়েকে বিশেষ আর্থিক সহায়তার ঘোষণাও দিয়েছে সরকার।

পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব এক বিবৃতিতে বলেছেন, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সরকারের পক্ষে বড় ধরনের কোনো স্বস্তি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। যেকোনো ছাড় বা ভর্তুকি কেবলমাত্র একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই পুরো পরিস্থিতি প্রতি সপ্তাহে পর্যালোচনা করা হবে এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে বলেও জানান তিনি।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.